বৃহস্পতিবার, ১৫ এপ্রিল ২০২১ খ্রীষ্টাব্দ | ২ বৈশাখ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

হতাশা কাটিয়ে ফের চাঙ্গা হয়ে উঠছে বাংলাদেশের অর্থনীতি : মোহাম্মদ শামস উদ্দিন



করোনা মহামারীর কারণে বিশ্ব অর্থনীতির যে ক্ষতি হবে, তার আর্থিক পরিমান হতে পারে ১২ ট্রিলিয়ন ডলার এমন পূর্বাভাস দিয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। বাংলাদেশের টানা ৬৬ দিনের সাধারণ ছুটিতে করোনার কারণে আর্থিক ক্ষতি হয়েছে প্রায় ৪লাখ কোটি টাকা। এই ক্ষতিপোষাতে সামনে অনেকদিন লড়তে হবে বলে মনে করেন খাত সংশ্লিষ্টরা।
তবে আশার কথা হচ্ছে মহামারী রূপ নেয়া কভিদ ১৯ এর ধাক্কা সামলিয়ে, হতাশা কাটিয়ে খুব দ্রুতই ঘুরে দাঁড়াচ্ছে আমাদের অর্থনীতি। মহামারী সত্ত্বেও গত (জুলাই- জুন ) অর্থবছরে ৫ দশমিক ২৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে বলে এক খসড়া প্রতিবেদনে প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)।
উল্লেখ্য যে, স্বাস্থ্যবিধি মেনে সংক্রমনের ঝুঁকির মধ্যে দেশের প্রতিটি ক্ষেত্রেই ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে কর্মচাঞ্চল্য। স্থানীয় উৎপাদন বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে শুরু করেছে রপ্তানি বাণিজ্যও। কলকারখানার উৎপাদন স্বাভাবিকের তুলনায় প্রায় ৬০- ৭০% শুরু হয়েছে। একে পুরোপুরি দাঁড়ানো বলা না গেলেও সচল তো হচ্ছে। অত্যন্ত আশার কথা হচ্ছে এই কোভিদ মহামারীতেও বেড়েছে রেমিটেন্স প্রবাহ। প্রবাসীরা রেকর্ড পরিমাণ রেমিটেন্স পাঠিয়েছেন গত দুই মাস। এতে বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ এখন ৩৬ বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করেছে আর সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরে রেমিট্যান্স এসেছে ১ হাজার ৮২০ কোটি ৫০ লাখ(১৮ দশমিক ২০ বিলিয়ন) ডলার। বাংলাদেশি টাকার অংকে যা ১ লাখ ৫৪ হাজার ৩৫২ কোটি টাকা।
এদিকে কোভিদ মহামারীর মধ্যেও গত জুনে রপ্তানি বাড়তে শুরু করে। গত বছর জুলাই এর তুলনায় এবছর জুলাইয়ে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি, শূন্য দশমিক ৬ শতাংশ বেড়েছে।
গত ২ সেপ্টেমবর বুধবার বাংলাদেশের অর্থনীতির সামগ্রিক মূল্যায়ন তুলে ধরে স্ট্যান্ডার্ড চাটার্ড ব্যাংকের এশীয় অঞ্চলের প্রধান অর্থনীতিবিদ এডওয়ার্ড লি জানান, বাংলাদেশ এখন ব্যবসায় অনিশ্চয়তা কাটিয়ে উঠেছে। এশিয়া ও দক্ষিণ এশিয়ার দুটি দেশ ২০২০সালে প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে পারবে। এর মধ্যে একটি বাংলাদেশ। তিনি বলেন, সাধারণ ছুটি শেষ হওয়ার পর অর্থনীতির চাকা ঘুরতে শুরু করেছে। মানুষের মনে আস্থা ফিরেছে। কেনাবেচা বেড়েছে। এসবের উপর ভর করেই এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশের অর্থনীতি।
আরেকটি বিষয় উল্লেখ করা প্রয়োজন যে এই মহামারীর মধ্যেও আমাদের কৃষি প্রধান বাংলাদেশ কৃষিতে বাম্পার ফলন ফলিয়েছে। গত বোরো মৌসুমে ধানের বাম্পার ফলন হওয়ায় দেশের অভ্যন্তরীণ খাদ্য পরিস্থিতি ছিল অত্যন্ত সন্তোষজনক। জননেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে সরকারের কৃষি বিভাগ অন্যান্য সময়ের তুলনায় এই সময়ে ছিল বেশ তৎপর। যার সুফল পেয়েছে জনগণ। এমন মহামারীতেও খাদ্য সংকটে পড়েনি বাংলাদেশ। এখনো পর্যন্ত পর্যাপ্ত খাদ্যশস্য মজুদ রয়েছে বলে কৃষি অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়।
বাংলাদেশের অর্থনীতিতে গতি সঞ্চার ও অর্থনৈতিক ধাক্কা কাটিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়ার পথে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ও শক্ত কৃষিখাতকে অস্বীকার করার উপায় নেই। অর্থনৈতিক ক্ষয়ক্ষতি পুনরুদ্ধারে সরকারের বেশ কয়েকটি উদ্যোগ সহায়তা করেছে বলে মনে করেন অর্থনীতি বিশেষজ্ঞরা। তারা বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ১,০৩,০০০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা, রেকর্ড পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ও রেমিটেন্স প্রবাহ এর সাথে রপ্তানি আয়ের প্রবৃদ্ধি অর্থনীতিকে সচল রেখেছে।
(লেখক পরিচিতি : মোহাম্মদ শামস উদ্দিন- ব্যাংকার, সমাজকর্মী, কলাম লেখক)
সংবাদটি শেয়ার করুন