রবিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১ খ্রীষ্টাব্দ | ৪ আশ্বিন ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

 

সিলেট ৩ আসন প্রসঙ্গে থোড়া পুরানা কথা : সেলিম আহমেদ



১৯৭৫ সালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক জেনারেল ওসমানীর মধ্যে কিছু মতপার্থক্যের কারণে আওয়ামী লীগ এবং সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করলেন জেনারেল ওসমানী। ফলে নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচিত জেনারেল ওসমানীর সংসদীয় আসন তৎকালীন সিলেট ২ (ফেঞ্চুগঞ্জ, ওসমানীনগর ও বালাগঞ্জ) আসনটি শূন্য হয়ে গেল। এই আসন থেকে ১৯৭০ সালের নির্বাচনে তখন সেটি সিলেট- ৬ আসন এবং এলাকা ছিল বিশ্বনাথ, বালাগঞ্জ, উসমানী নগর, ফেঞ্চুগঞ্জ এবং গোলাপগঞ্জ এলাকা জুড়ে।

স্বাধীনতার পর আসনটির আকার ছোট হয়ে যায় এবং সেটি সিলেট ২ আসন নামে পরিচিত হয়। ১৯৮৬ সালে আসনটি আবারো পুনর্গঠিত হয় এবং বর্তমান বালাগঞ্জ থানার কিয়দাংশ, দক্ষিণ সুরমা থানা এবং ফেঞ্চুগঞ্জ থানা নিয়ে সিলেট ৩ আসন গঠিত হয় (বর্তমানে ৬ টি ইউনিয়ন নিয়ে বালাগঞ্জ উপজেলা এই আসনের অন্তর্ভুক্ত)।

৭০ এবং ৭৩ পরপর দুইবার এই আসন থেকে নৌকা প্রতীক নিয়ে বিপুল ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছিলেন আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী জেনারেল ওসমানী (উভয় নির্বাচনেই সম্ভবত তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা কেউই নিজেদের জামানত রক্ষা করতে পারেননি)।

৭৫ সালে এই আসনের একজন আন্তর্জাতিক নেতার পদত্যাগে আসনটি শূন্য হয়ে যাওয়াতে আসনটির অবস্থা এমন দাঁড়ালো যেমন একটি এলাকা থেকে একটি বটগাছ সরে গেলে যে অবস্থা হয় সেই অবস্থা। আরো যদি পরিষ্কার করে বলি- তাহলে বর্তমান সিলেট ৩ আসন থেকে হঠাৎ করে এই আসনের বটগাছ হিসাবে পরিচিত প্রয়াত এমপি আলহাজ্ব মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরীর ইন্তিকালে যে অবস্থা হয়েছে ঠিক একই অবস্থা।

হঠাৎ করে একটি জায়গা থেকে বটগাছ সরে গেলে হয়তো নার্সারি থেকে যেকোনো প্রকারের গাছ এনে রোপন করে ছায়া পাওয়া সম্ভব হয়। কিন্তু সাথে সাথে বট গাছের মতো গাছ পাওয়া যায় না। বর্তমানে সিলেট ৩ আসনের যে অবস্থা,এর চেয়ে ভয়াবহ অবস্থা ছিল তখন। কারণ জেনারেল ওসমানী ছিলেন একজন আন্তর্জাতিক নেতা। মুক্তিযুদ্ধের কারণে বিশ্বব্যাপী ছিল তাঁর পরিচিতি ও সুনাম।

হঠাৎ করে জেনারেল ওসমানীর চলে যাওয়াতে কার হাতে নৌকা তুলে দেবেন এই নিয়ে চিন্তিত ছিলেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তাই শেষ পর্যন্ত উপনির্বাচনে নৌকা প্রত্যাশী প্রার্থীদের জন্য আসনটি উন্মুক্ত করে দিলেন। যাতে যে কেউ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে এর সুযোগ নিতে পারেন।

সেই উপনির্বাচনে আমাদের ফেঞ্চুগঞ্জের এক কৃতি সন্তান সিলেট জেলা ছাত্রলীগ ও যুবলীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ডঃ দেওয়ান নুরুল ইসলাম চঞ্চল অংশ নিয়েছিলেন। ভোট ও তিনি প্রচুর পেয়েছিলেন। কিন্তু মাত্র তিন ইউনিয়নের এই থানার প্রার্থী বিজয়ের কাছাকাছি থেকেও নির্বাচিত হতে পারেননি। কারণ ভোট আসলেই এসে যায় আঞ্চলিকতা আর সেই হিসেবে ওসমানীনগর এবং বালাগঞ্জ নিয়ে গঠিত বালাগঞ্জ থানার বিশাল এলাকা এবং অধিক জনগোষ্ঠীর প্রার্থীদের কাছে শেষ পর্যন্ত পরাজিত হতে হয়েছিল আমাদের ফেঞ্চুগঞ্জের এই কৃতী সন্তানকে।

ঐ নির্বাচনে এমপি নিযুক্ত হয়েছিলেন মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক সিলেট জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি এবং সিলেট গণদাবী পরিষদের সম্ভবত প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মোহাম্মদ আশরাফ আলী। ঐ উপনির্বাচনটি খুবই প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হয়েছিল বলে জানা যায়।

আমার এই লেখাটির মূল কারণ হলো বর্তমানে সিলেট ৩ আসনে নৌকা প্রত্যাশী প্রার্থীদের যে অবস্থা তাতে ৭৫ সালের সেই নির্বাচনের কথাটি মনে করিয়ে দেয়। যদি নেতৃত্ব শূন্যতার এই খরা কাটাতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা একই পন্থা অবলম্বন করেন এই আসনে নৌকা প্রত্যাশী প্রার্থীদের জন্য আসনটি উন্মুক্ত করে দিতেন, তাহলেই দেখা যেত- কার মাই আছেন আর কার মাই নাই।

[ বিঃ দ্রঃ লেখার মধ্যে ভুল ত্রুটির জন্য সকলের কাছে ক্ষমা প্রার্থী, লেখক :-সেলিম আহমেদ]

সংবাদটি শেয়ার করুন