সোমবার, ২ অগাস্ট ২০২১ খ্রীষ্টাব্দ | ১৮ শ্রাবণ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

 

সিলেটে বেড়েছে খুন…



এনামুল কবীর : মাসখানেক আগের ঘটনা। সিলেট জজ কোর্টের আইনজীবী আনোয়ার হোসেনের মৃত্যুরহস্য উদঘাটন করতে গিয়ে পুলিশ আবিস্কার করে পরকীয়া সম্পর্কের বিষয়।

জানা গেলো আনোয়ারের স্ত্রী শিপার সাথে তারই খালাতো ভাই ছাত্রদল নেতা মাহি পরকীয়া সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছিলেন। এরপর তারা তাকে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দেয়ার পরিকল্পনা এবং তা বাস্তবায়নও করেন।

৭ জুন নগরীর কাজিটুলা উঁচাসড়কের চৌধুরী ভিলার নিচ থেকে মারাত্মক আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয় শহতলীর পীরেরবাজার এলাকার আব্দুন নূরের ছেলে রাবিদ আহমদ নাজিমকে। ওসামনী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সেদিন দুপুরেই তার মৃত্যু হয়। এর কারণ এখনো রহস্যাবৃত। স্বাভাবিক মৃত্যু আত্মহত্যা না হত্যাকান্ড- পরিস্কার নয় আইনশৃঙখলা বাহিনীর কাছে।

গত ১৬ জুন গোয়াইনঘাটের বিন্নাকান্দি ইউনিয়নের ফহেতপুর গ্রামে ঘটে ট্রিপল মার্ডারের ঘটনা। এই হত্যাকাণ্ডে ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা হয় হিফজুর রহমানে স্ত্রী ও দুই সন্তানের লাশ। সন্তানদের বয়স যথাত্রমে ১০ ও ৩ বছর। হিফজুরকেও মারাত্মক আহত অবস্থায় উদ্ধার করে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। তার স্ত্রী আলেমা ৫ মাসের গর্ভবতি ছিলেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর পুলিশের ধারণা, হিফজুরই খুন করেছে স্ত্রী ও সন্তানদের। সে বছরে একটা সময় মানসিক রোগে ভোগে।

শনিবার রাতে ওসমানীনগর থেকে উদ্ধার করা হয় স্কুল শিক্ষিকা লাভলী (৪৮) ও তার গৃহকর্মীর। এই হত্যাকেণ্ডে সাথেও টাকা বা অনৈতিক সম্পর্ক জড়িত বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

সর্বশেষ শনিবার সিলেট নগরীর শাহজালাল উপশহরে শ্বশুরবাড়িতে এক যুবককে বিষ প্রয়োগে হত্যার অভিযোগ ওঠেছে। শনিবার (১৯ জুন) রাত ৮টার দিকে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই যুবকের মৃত্যু ঘটে।

নিহত যুবকের নাম তাজ উদ্দিন আহমদ (২৫)। তিনি পেশায় সিএনজি অটোরিকশা চালক। তিনি সিলেট আখালিয়া এলাকার একটি বাসায় স্ত্রী-সন্তান নিয়ে ভাড়া থাকতেন।

পরপর এত খুনের ঘটনায় সিলেটের সচেতন মহলে আতঙ্ক আর হতাশা ছড়িয়ে পড়ছে। আরও খারাপ খবর হচ্ছে, প্রায় সবগুলো ঘটনার সাথে জড়িয়ে আছে টাকা এবং নারী বা আরও পরিস্কার করে বলা যায় পরকীয়া সম্পর্ক। এতে সিলেটের সমাজ জীবনে মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বলেও মনে করছেন সচেতন মহল।

এ ব্যাপারে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মনিরুজ্জামান সোহাগ বলেন- অর্থনৈতিক এবং সামাজিক কারণেই এই হত্যাকাণ্ডগুলো সংগঠিত হচ্ছে। পারিবারিক বন্ধন শিথিল হওয়াও এর একটা কারণ। ধনসম্পদ নিয়ে মনোমালিন্যের কারণে সেই অতীতকাল থেকেই খুনাখুনি হচ্ছে। এখন যেটা হচ্ছে, আমাদের নৈতক শিক্ষার বিষয়টা অনেক হ্রাস পাচ্ছে। এতে পরকীয়া বা নারীগঠিত বিভিন্ন অপরাধ সংগঠিত হচ্ছে এবং এক সময় তা খুনাখুনিতে গড়াচ্ছে।

এ থেকে উত্তরণের উপায় প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে তিনি বলেন- প্রযুক্তির নেতিবাচক প্রভাব থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। পারিবারিক বন্ধন আগের মতো আরও দৃঢ় করা জরুরী। পাশাপাশি সমাজের সবাইকে নৈতিকতার একজন শিক্ষক হতে হবে। পরিবারে এই শিক্ষাটার উপর বেশি জোর দিতে হবে। কারণ সেটিই মানুষের প্রথম শিক্ষাক্ষেত্র।

এছাড়া স্কুল কলেজ ও মসজিদে নৈতিক শিক্ষার উপর আরও জোর দিতে হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন