রবিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১ খ্রীষ্টাব্দ | ৪ আশ্বিন ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

 

সিলেটজুড়ে তোলপাড় প্রভাষক লিলিকান্ডে



ডেইলি ফেঞ্চুগঞ্জ ডটকম : শংকু রানী সরকার লিলি, পেশায় একজন কলেজ প্রভাষক। এই পরিচয় ছাড়াও তার রয়েছে বহু পরিচয়। কখনো আইনজীবী হিসেবে। কখনোবা সাংবাদিক বা মানবাধিকার কর্মী হিসেবেও পরিচয় দেন নিজেকে। এই সব পরিচয় ব্যবহার করে মানুষের সাথে প্রতারণা করে থাকেন তিনি- এমনি অভিযোগ উঠেছে।

প্রতারণার অভিযোগে বুধবার বিকেলে সিলেটের আদালতপাড়ায় তাকে আটক করেন জনতা। প্রতারণার মাধ্যমে এক গৃহকর্মীর কাছ থেকে তার ছেলেকে জামিন পাইয়ে দেয়ার কথা বলে প্রায় অর্ধলক্ষ টাকা হাতিয়ে নেন শঙ্কু। এই ঘটনায় বুধবার বিকেলে সিলেট আদালতপাড়ার বার হল নং-২ এর সামনে তাকে আটক করা হয়।

শংকু রানী সরকার লিলি সিলেটের মেজরটিলায় এন আর টাওয়ারে ৩৫/২ নং বাসায় ভাড়াটে থাকেন। একই সাথে তিনি সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলা সদরের বিশ্বনাথ সরকারি ডিগ্রি কলেজের ম্যানেজমন্টে বিভাগের প্রভাষক হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন।

জানা যায়- এক মাস আগে সিলেটের মিরাবাজারের একটি বাসায় ভাড়াটে থাকা গৃহকর্মী শিল্পী বেগমের অটোরিকশা চালক ছেলে পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হন। ছেলেকে ছাড়াতে শংকু রানী সরকার লিলির কাছে আসেন গৃহকর্মী শিল্পী বেগমের। লিলি নিজেকে আইনজীবী পরিচয় দেন এবং শিল্পী বেগমের ছেলেকে জামিন পাইয়ে দেয়ার জন্য ৪৫ হাজার টাকার চুক্তি করেন। পরে এক মাসে শিল্পী বেগম মানুষের বাসাবাড়িতে কাজ করে টাকা জমিয়ে ৩-৪ কিস্তিতে লিলিকে ৪৫ হাজার টাকা দিয়ে দেন। কিন্তু লিলি মামলার শুনানির তারিখগুলো নানা টালবাহানায় পার করতে থাকেন।

বুধবার (২১ এপ্রিল) ছিলো শিল্পী বেগমের ছেলের মামলার আরেকটি শুনানির তারিখ। বুধবার তার ছেলেকে জামিন পাইয়ে দেয়ার কথা চূড়ান্ত করেন লিলি। কিন্তু বুধবারও ছেলের জামিন না হওয়ায় সিলেট বার হল নং-২ এর সামনে লিলির কাছে ৪৫ হাজার টাকা ফেরত চান শিল্পী বেগম। এতে লিলি ক্ষিপ্ত হয়ে শিল্পী বেগমকে মারধর শুরু করেন। এসময় ঘটনাস্থলে আইনজীবী ও লোকজন জড়ো হলে শিল্পী বেগম বিস্তারিত ঘটনা খুলে বলেন। তখন আইনজীবী ও জনতা প্রতারক লিলিকে আটক করেন।

এদিকে, আটকের পর প্রতারক লিলি উত্তেজিত হয়ে নিজেকে একাধারে আয়কর আইনজীবী, সাংবাদিক, মানবাধিকার কর্মী ও বিশ্বনাথ কলেজের অধ্যাপিকা পরিচয় দেন। এসময় তার গলায় ‘ইন্টারন্যাশনাল হিউমেন রাইটস’ মানবাধিকার সংস্থার একটি পরিচয়পত্র ঝুলতে দেখা যায়। এটি সবাইকে দেখিয়ে লিলি নিজেকে ওই সংস্থা সম্পাদিত পত্রিকার ক্রাইম রিপোর্টার পরিচয় দেন।

তবে পুলিশের ভয় দেখালে কান্নাজড়িত কণ্ঠে নিজের ভুল শিকার করেন। পরে তাকে আইনজীবী সমিতির কাছে তুলে দেওয়া হয় এবং মুছলেকা দিয়ে ছাড়া পান শঙ্কু।

অন্যদিকে, এই ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে, বিশ্বনাথসহ সিলেট জুড়ে সমালোচনা শুরু হয়। বিশ্বনাথ সরকারি কলেজের অনেক শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন শ্রেনির লোকজন ক্ষোভ প্রকাশ করে তাদের ফেসবুক একাউন্টে ছবি দিয়ে বিভিন্ন মন্তব্য করতে দেখা যায়। সূত্রঃ সিলেট প্রতিদিন

সংবাদটি শেয়ার করুন