সোমবার, ২১ জুন ২০২১ খ্রীষ্টাব্দ | ৭ আষাঢ় ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

ফেঞ্চুগঞ্জে নিরীহ পরিবারে হামলা, ঘর বাড়ি ভাংচুর…!



ফরিদ উদ্দিনঃ ও ভাই এখন আমি কই যামু বাড়িঘর ভাইংগা দিসে বৃদ্ধ মা ছেলে সন্তান নিয়ে এ শীতে খোলা আকাশের নিচে ক্যামনে থাকমু গো ভাই ! এসব বলে বিলাপ করছিলেন ফেঞ্চুগঞ্জ নারায়ণ পুরের আব্দুল লতিফ।

রাত্রিবেলা খোলা আকাশের নিচে সাদা দৃষ্টি নিয়ে বসে আছেন তার বৃদ্ধ মা ও ছোট সন্তানেরা। তাদের থাকা, রান্নাবান্না, খাবারের কোনু ব্যবস্থা নাই !

ঘটনা বিবরনে জানা যায়- হামলার শিকার আব্দুল লতিফ মাটিকাটা কাজ করে জীবন নির্বাহ করেন তার উপর আট সদস্যের পরিবার। খেয়ে পরে বাচার স্বপ্ন দেখে বিদেশ যেতে নিজ ভিটা বিক্রি করে দালালের হাতে টাকা তুলে দেন। দালাল নিরুদ্দেশ হয়ে গেলে আব্দুল লতিফ ভূমিহীন হয়ে পড়েন। কয়েকবছর এলাকার বিভিন্ন জনের বাড়িতে আশ্রয় নেন কিন্তু অভাব আর বড় পরিবার হওয়াতে কোথাও টিকতে পারেন নি। ভাসমান হয়ে পড়ে পরিবারটি। কিছু দিন আগে স্থানীয় প্রশাসন একাধিক ভূমিহীন পরিবারকে বেতরী নদীপারে ভূমি বন্দোবস্ত দেয়। তিনি বন্দোবস্ত পাননি। নিরুপায় আসহায় হয়ে আব্দুল লতিফ পরিত্যক্ত নদীর পারে গত কাল বাশ টিন দিয়ে ঘর তুলেন এতে ক্ষেপে যায় এলাকার প্রভাবশালীরা।

সোমবার সকালে সংঘবদ্ধ হামলা চালিয়ে গুড়িয়ে দেওয়া হয় আব্দুল লতিফের ঘর ! ভাংচুর করা হয় বাসন পত্র, আসবাব ! একদম শুন্য হয়ে পড়েন তিনি। স্থানীয়রা বলেন, গরীব ভূমিহীন একটা লোক সরকারী নদী পারে কাচা ঘর তুলেছে আপত্তি করলে প্রশাসন দেখবে হামলা করে তাকে সর্বস্বান্ত করার অধিকার কারো নেই। এ লোকটা ছোট সন্তান ও বৃদ্ধ মা নিয়ে যাবে কোথায়, খাবে কোথায়। আব্দুল লতিফের স্ত্রী সুজিনা আক্তার বলেন আগে কারো বাড়িতে রান্না করা যেত এখন তাও নাই বাসন চুলা সব ভেংগে দিসে! এ বৃদ্ধ শাশুড়ি মা, ছোট ছেলেদের নিয়ে শীতের মৌসুমে যাবো কোথায়? উনার প্রশ্নের উত্তর মিলেনি তবে মতামত এলো ভূমি বন্দোবস্ত করার দাপ্তরিক কাজ চালিয়ে যেতে আর সমাজের বিত্তবানদের সহায় হাত বাড়াতে।

এ ব্যাপারে আব্দল লতিফ বাদি হয়ে ফেঞ্চুগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেছন বলে জানান এ এস আই মোশাররফ ইসলাম। ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আনিছুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আব্দুল লতিফ আবেদন করলে আসলেই ভূমিহীন হলে উনাকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ভূমি বন্দোবস্ত দেওয়ার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন