সোমবার, ২১ জুন ২০২১ খ্রীষ্টাব্দ | ৭ আষাঢ় ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

ফেঞ্চুগঞ্জের সড়কগুলো মরণ ফাঁদে পরিনত



মামুনুর রশীদঃ সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না করায় চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। জরাজীর্ণ সড়কগুলো দিয়ে প্রতিদিন চলাচল করতে গিয়ে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন উপজেলার হাজার হাজার মানুষ।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের আওতাধীন বেহাল সড়ক গুলোর মধ্যে রয়েছে-মাইজগাঁও-ভাটেরা সড়ক, মাইজগাঁও-পুরানবাজার সড়ক, বিয়ালীবাজার-ঘিলাছড়া সড়ক, কটালপুর-পাঠানচক সড়ক,উপজেলা হেডকোয়ার্টার-ফেঞ্চুগঞ্জ রেলষ্টেশন সড়ক। সড়ক ও জনপথ বিভাগের আওতাধীন সড়ক গুলোর মধ্যে পুরানবাজার-মাইজগাঁওসড়ক,ফেঞ্চুগঞ্জ-বাজার-মাইজগাঁও, সড়কগুলো উল্লেখযোগ্য।

সরেজমিনে সড়ক গুলো ঘুরে দেখা যায়, প্রতিটি সড়ক বেহাল অবস্থায় রয়েছে। দীর্ঘদিন সংস্কার না করায় সড়কগুলোর বিভিন্ন অংশের ইট, পাথর বিটুমিন ও খোয়া উঠে গেছে। সড়কগুলোতে খানাখন্দের সৃষ্টি হওয়ায় বৃষ্টি হলে সড়কের মধ্যে সৃষ্ট ছোটবড় গর্তে পানি জমে থাকে। বিশেষ করে মাইজগাঁও-ভাটেরা সড়কের অবস্থা সবচেয়ে নাজুক অবস্থায় রয়েছে। সড়কের বিভিন্ন অংশে অসংখ্য গর্তের সৃষ্টি হওয়ায় প্রতিদিন সিলেট ভাটেরাগামী যাত্রীবাহী বাসসহ শতশত যানবাহন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল কর থাকেন। পুরানবাজার-মাইজগাঁও সড়কটি নাজুক অবস্থায় রয়েছে।

গুরুত্বপূর্ণ এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন যাতায়াত করে থাকেন ফেঞ্চুগঞ্জ ডিগ্রী কলেজে, মোশাহিদ আলী বালিকা মাদ্রাসার ছাত্রছাত্রী, ফেঞ্চুগঞ্জ শাহজালাল সার কারখানার শ্রমিক কর্মচারীরাসহ জনসাধারন। সড়কগুলোর বিভিন্ন অংশে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি কারণে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্রছাত্রীসহ জনসাধারন প্রতিনিয়তো দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। “রাস্তা খারাপ” এই অজুহাতে সড়ক দিয়ে চলাচলকারী যানবাহন চালকরা যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করে নিচ্ছেন। যানবাহনের অতিরিক্ত ভাড়াকে কেন্দ্র করে প্রতিদিন যানবাহনের চালক ও যাত্রীদের মধ্যে একাধিক বাকবিতন্ডার ঘটনা ঘটছে।

ফেঞ্চুগঞ্জ ডিগ্রী কলেজের ছাত্র মোঃ মুহিবুল ইসলাম মান্না বলেন, কলেজে যাতায়াতকালে প্রতিদিন অতিরিক্ত ভাড়া দিতে হয়। প্রতিবাদ করে কোন লাভ হয়না ঝগড়াঝাটি করতে হয়।

সিএনজি অটোরিকসা চালক তাজুল ইসলাম বলেন, রাস্তা খারাপ হওয়ায় ঘনঘন গাড়ির নষ্ট হয়। গাড়ি মেরামত করতে মাসে অতিরিক্ত টাকা ব্যয় করতে হয়।
রাজনপুর গ্রামের শাহ বদরুল ইসলাম বলেন, রাস্তা গুলো দীর্ঘদিন থেকেএতই বেহাল অবস্থায় রয়েছে যেন দেখার কেউ নেই।জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন চলাচল করে থাকি। ইসলামপুর গ্রামের বাসিন্দা মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান কিনেল ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমাদের গ্রামের রাস্তার সেতু সংলগ্ন অংশটি দীর্ঘদিন থেকে মেরামত না করায় আমরা সেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে মেরামত করে দিয়েছি।

১নং ফেঞ্চুগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহিরুল ইসলাম মুরাদ বলেন, গ্রামীন রাস্তা হলে টিআর কাবিখার মাধ্যমে সড়কগুলো সংস্কার করা যেন কিন্ত সড়ক গুলো এলজিইডি ও সড়ক ও জনপথ বিভাগের অধীনে। উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ বেহাল সড়ক গুলো জরুরী ভিত্তিতে সংস্কার করা প্রয়োজন হয়ে পড়েছে।

এ ব্যাপারে উপজেলা প্রকৌশলী জিহান আল তুহিন বলেন, উপজেলার সড়কগুলোর মধ্যে কয়েটি সড়ক, সড়ক ও জনপথ বিভাগের আওতাভূক্ত। আমাদের আওতায় যে সড়কগুলো রয়েছে সেই সড়কগুলো সংস্কারের প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন