মঙ্গলবার, ২২ জুন ২০২১ খ্রীষ্টাব্দ | ৮ আষাঢ় ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

প্রশাসনের নাকের ডগায় রাক্ষুসি ড্রেজার বেপরোয়া তাণ্ডব চালাচ্ছে গোটা উপজেলা জুড়েই!



ফরিদ উদ্দিনঃ বালুখেকোদের ড্রেজার আক্রমনে আতিষ্ট ফেঞ্চুগঞ্জবাসী। প্রশাসনের নাকের ডগায় এ রাক্ষুসি ড্রেজার বেপরোয়া তাণ্ডব চালাচ্ছে গোটা উপজেলা জুড়েই। আর এ কারণে নদী ভাঙ্গন প্রকট রূপ ধারণ করেছে। কুশিয়ারায় বিলিন হয়ে যাচ্ছে মানুষের ফসলিজমি ও বসতভিটা। প্রশাসনের নিরবতায় ক্ষোভ প্রকাশ করছেন এলাকাবাসী।

সরেজমিনে দেখা যায়- উপজেলার গঙ্গাপুরে ড্রেজার দিয়ে বালু বিক্রি করা হচ্ছে বালুর ক্রেতা প্রবাসী আলি হোসেনের নতুন বাড়ি ভরাট করা হচ্ছে। তারা জানান বিক্রেতা গঙ্গাপুরের ইসন মিয়া বালু সরবরাহ করছেন।

অনুসন্ধানকালে ইসন মিয়াকে নদীর পারে দেখা গেলেও পরে হঠাৎই তিনি অদৃশ্য হয়ে যান। ড্রেজার শ্রমিক কাঞ্চন জানান এ বালু উজান থেকে আসছে কিন্তু তিনি মহলের নাম জানেন না!

উনাকে বাধা দিয়ে আরেক শ্রমিক রফিকুল ইসলাম বলেন- না বালু ভাটি থেকে আনছি কিন্তু উনিও মহালের নাম বা কোনু রশিদ দেখাতে পারলেন না। তবে এটাই সত্য যে রাতে ভেনকুনা ও মধুরাই চরেই তারা হানা দেয়। এখান থেকে ঘুরে এসে জানা গেল মধুরাই সড়ক ভেঙ্গে গেছে বালাগঞ্জ-ফেঞ্চুগঞ্জ যান চলাচল বন্ধ।

স্থানীয়রা বলেন- এখানে রাতে ড্রেজার চলার ফলে এ সড়ক ভেঙ্গে গেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক জনপ্রতিনিধি বলেন,  প্রশাসন দেখে না মানে কি? রাতে না হয় চুরি করে বালু তুলে দিনের বেলা ঐসব ড্রেজার বোট সরঞ্জামাদি তো নদীতেই থাকে প্রশাসন দেখবে না কেন? ঘুরে দেখা গেলও তাই।

উপজেলা কার্যালয়ের সামনে ফেঞ্চুগঞ্জ সেতুর নিচে নোঙর করা ড্রেজার বোট। জনপ্রতিনিধি ক্ষোভ করে বলেন প্রশাসন দেখেও না দেখার ভান করলে বাড়িঘর ভাঙ্গার অপেক্ষা করা ছাড়া কিচ্ছু করার নাই।

গতকাল ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার হুরে জান্নাত বলেছিলেন- ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এসব ড্রেজার দৌরাত্ম্য বন্ধ করতে কি ব্যবস্থা নেওয়া হয় তাই দেখার বিষয়।

সংবাদটি শেয়ার করুন