মঙ্গলবার, ২২ জুন ২০২১ খ্রীষ্টাব্দ | ৮ আষাঢ় ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

দক্ষিণ সুরমার মোগলাবাজারে তিন পরিবারকে একঘরে করে রেখেছে পঞ্চায়েত



দক্ষিণ সুরমা পতিনিধিঃ দক্ষিণ সুরমা মোগলাবাজার থানার পশ্চিম দাউদপুর গ্রামে তিন পরিবারকে গ্রামের পঞ্চায়েত একঘরে করে রেখেছে বলে অভিযোগ ওঠেছে। বুধবার মোগলাবাজার থানার ওসি বরাবর দেওয়া একটি অভিযোগপত্রে এমন অভিযোগ করেছেন সিলেট জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য এডভোকেট মোহাম্মদ আলী আহমদ।

পশ্চিম দাউদপুর গ্রামের মো. আজমল আলীর ছেলে এডভোকেট মোহাম্মদ আলী আহমদ অভিযোগে উল্লেখ করেছেন, গত ২৬ জানুয়ারি সকাল ১০টার দিকে পশ্চিম দাউদপুর জামে মসজিদ কমিটির সেক্রেটারি আপ্তাব আলীর (মৃত আম্বর আলীর ছেলে) সাথে মসজিদের টাইলস ফিটিং নিয়ে কথা কাটাকাটির হয় মসজিদ কমিটির সদস্য ও তার (এডভোকেট মোহাম্মদ আলী) চাচা আব্দুল বারীর। এসময় মসজিদ কমিটির সেক্রেটারি আপ্তাব আলীর নির্দেশে তার ছেলে পারভেজ (২২), ভাতিজা ও মনোহর আলীর ছেলে রাহিমুল ইসলাম লিহিন (২৫), শাহীন (৩০), লাহীন (২৮), মৃত সোনাহর আলীর ছেলে সিরাজুল ইসলাম (৩৫), হুমায়ুন কবীর রুবেল (২৬) ও এনাম (৩০), কুদ্রত উল্লার ছেলে মবারক আলী (৪০), তবারক আলীর ছেলে জামাল (৩০), জাবেদ (২৫) ও জাহিদ (২০), মৃত মাজিদ আলীর ছেলে আব্দুন নুর (৩৫), জুবের (৪০), আব্দুর রজাক (৫০), সেনাজ (৩২), আব্দুর রজাকের ছেলে হাবিবুর রহমান (৪০), মৃত আরব আলীর ছেলে আছব্বির (৬০), মৃত মাছিম আলীর ছেলে মুহিবুর রহমান (৬০) ও ছইম আলী (৬৫), মুহিবুর রহমানের ছেলে সেবুল (২২), নেছার আলীর ছেলে গিয়াস (৩৫), মৃত আকবুল আলীর ছেলে শামীম (৩৮) প্রমুখ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তাদের (এডভোকেট মোহাম্মদ আলী) আক্রমণ করে।

ঘটনার খবর পেয়ে গ্রামের মুরব্বি জামাল আহমদ, সুনা মিয়া, ৬ পাড়ার প্রধান মুরব্বী মো. আতাউর রহমান, ২নং ওয়ার্ড সদস্য কামরুল ইসলাম, ৩নং ওয়ার্ড সদস্য হেলাল আহমদ, ৯নং দাউদপুর ইউপি চেয়ারম্যান এইচএম খলিলসহ এলাকার অন্যান্য মুরব্বিরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। এঁরা সবাই পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত কোন রকম পদক্ষেপ না নেওয়ার জন্য এডভোকেট মোহাম্মদ আলী আহমদ পক্ষকে নির্দেশ দেন।

অভিযোগে এডভোকেট মোহাম্মদ আলী আহমদ আরো উল্লেখ করেছেন, ঘটনার দিন রাত ৮টায় স্থানীয় চেয়ারম্যান এইচএম খলিল ফোন দিয়ে তাদের (এডভোকেট মোহাম্মদ আলী) জানান- ৩ জানুয়ারি বিষয়টি নিয়ে  পাড়ার মুরব্বিয়ানদের সাথে নিয়ে বিচারের তারিখ ধার্য্য করা হয়েছে। কিন্তু ঘটনার দিনই উপরোক্ত অভিযুক্ত ব্যক্তিরা এডভোকেট মোহাম্মদ আলী আহমদ ও তার দুই চাচার পরিবারকে পঞ্চায়েত থেকে বাদ দেন।  এই বাদ দেওয়ার বিষয়টি পঞ্চায়েতের মুষ্টিচাল তোলার জন্য নির্ধারিত ফয়জুর রহমান (৫০) ওই তিন পরিবারকে অবহিত করেন এবং এসব পরিবার যাতে ঘর থেকে বের না হয় তা জানিয়ে দেওয়া হয়।

অভিযোগে আরো উল্লেখ করা হয়েছে, এডভোকেট মোহাম্মদ আলী আহমদের ছোট বোন টিচার্স ট্রেনিং কলেজে, চাচাতো ভাই শাবিতে ও চাচাতো ছোট ৪ ভাইবোন জাপান বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ হাইস্কুলে অধ্যয়নরত। নিরাপত্তাহীনতায় এরা বাইরে বের হতে না পারায় তাদের শিক্ষাজীবন ব্যহত হচ্ছে। এছাড়া বর্তমানে এডভোকেট মোহাম্মদ আলী আহমদ ও তার দুই চাচার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় আছেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

এদিকে, এডভোকেট মোহাম্মদ আলী আহমদের এই অভিযোগের ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে মোগলাবাজার থানার ওসিকে অনুরোধ জানিয়ে বুধবার চিঠি (ডি.বি.এ.সিল-১০৬/২০১৭) দিয়েছেন সিলেট জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক হোসেন আহমদ।

সংবাদটি শেয়ার করুন