সোমবার, ২১ জুন ২০২১ খ্রীষ্টাব্দ | ৭ আষাঢ় ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

জেলা পরিষদের নির্বাচন ও যুক্তরাষ্ট্রস্থ জালালাবাদ এসোসিয়েশন সভাপতির ভুমিকাঃঃ আহবাব চৌধুরী



গতকাল সারা দেশে অনুষ্টিত হয়ে গেলো আরেরেকটি প্রহসনের নির্বাচন । দলের সুবিধা বঞ্চিত কিছু নেতাদের সান্তনা দেওয়ার জন্য বোধকরি আওয়ামী সরকারের এটি ছিলো একটি কৌশলী সিন্ধান্ত । প্রবাদের সেই চাঁদের কলঙ্কের মতো আওয়ামীলীগের জন্য এই নির্বাচন ইতিহাসের একটি কলঙ্কময় অধ্যায় হয়ে থাকবে চীরকাল ।

সকল রাজনৈতিক দলের অংশ গ্রহণ ব্যতিত এক দলীয় এই নির্বাচনে ২৮টি জেলায় বিনা প্রতিদন্দ্বিতায় পূর্বেই নির্বাচিত হয়েছিলেন আওয়ামীলীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থীগন, সম্ভবত ১টি জেলা ব্যতিত ৫৮টি জেলায় আওয়ামীলীগ মনোনীত ও আওয়ামীলীগ বিদ্রোহী প্রার্থীদের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়েছে । এর মধ্যে ৪৭টি জেলায় আওয়ামীলীগ মনোনীত ও ১২টি জেলায় আওয়ামীলীগ বিদ্রোহীরা বিজয়ী হয়েছে ।

এই নির্বাচন নিয়ে দেশের সচেতন মানুষের মতো আমার ও বিন্দুমাত্র আগ্রহ ছিলো না । তাই এঈ নির্বাচনে আমার নিজের জেলা সিলেটে কে নির্বাচন করছেন আমি জানার ও প্রয়োজন বোধ করিনি । তবে এই নির্বাচনে আমার একটি জেলা নিয়ে খুবই আগ্রহ ছিলো আর সেটি হচ্ছে মৌলভীবাজার । এই জেলায় চেয়ারম্যান পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন আমাদের এই প্রবাসের প্রিয়মুখ প্রাক্তন সাংসদ এম এম শাহীন । একজন প্রবাসী হিসাবে আমি আশা করেছিলাম এই নির্বাচন শাহীনভাই নির্বাচিত হলে আমাদের প্রবাসীদের স্বার্থে কিছুটা হলেও সংরক্ষিত হবে ।

আমি আশা করে ছিলাম এই প্রবাসে থেকে যারা কমিউনিটি পলিটিক্স করেন, সারা বছর আমাদের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন বলে প্রশংসা নেওয়ার চেষ্টা করেন তারা অন্তত আমাদের বৃহত্তর স্বার্থে প্রকাশ্যে না হলেও শাহীনভাইয়ের প্রতি মৌন সমর্থন জানাবেন । কিন্তু এ ক্ষেত্রে পুরোপুরি হতাশ হয়েছি আমাদের এই প্রবাসের কিছু নেতৃবৃন্দের সংকির্ণ মনমানসিকতা দেখে । বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে সিলেট বিভাগবাসীর গর্ভের সংগঠন জালালাবাদ এসোসিয়েশনের সভাপতির ভুমিকা আমাকে খুবই হতাশ করেছে । আমরা জানি জালালাবাদ এসোসিয়েশন সভাপতি সাহেব আওয়ামী ঘরোনার লোক ও নেতা ।

কিন্তু তাই বলে তিনি জালালাবাদের অফিস,ব্যানার কিংবা সভাপতির পদ ব্যাবহার করে একজন দলীয় প্রার্থীর পক্ষে এভাবে ক্যাম্পেইন করতে পারেন না ।আমি যতটুকু জানি এম এম শাহীন যুক্তরাষ্ট্রস্থ জালালাবাদ এসোসিয়েশনের প্রতিষ্টাতা সাধারণ সম্পাদক এবং এই প্রবাসের বাসিন্দা । তিনি যখন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে নির্বাচন করছেন তখন জালালাবাদের সভাপতি একজন দলীয় প্রার্থীর পক্ষে এভাবে প্রচারণায় অংশ না নিয়ে একটু নিরব থাকলে এটা আমাদের সকলের জন্য উদাহরণ হয়ে থাকতো ।তাছাড়া জালালাবাদের সভাপতি মৌলভীবাজার জেলার নাগরিক ও নয় ।

নিজের জেলা বাদ দিয়ে হটাৎ করে মৌলভীবাজার জেলার প্রার্থী নিয়ে তার এতো আগ্রহ কেন আমার বোধগম্য নয় । নাকি শাহীনসাহেবের বিরোধী করাই ছিলো তার এই আগ্রহের লক্ষ্য । ভবিষ্যতে আমাদের প্রবাসে কোন সম্ভবনাময় প্রার্থী থেকে থাকলে তিনি যে দলেরই হোন না কেন সবাইকে উদারতার পরিচয় দিযে সেই প্রার্থীর জন্য কাজ করা প্রয়োজন বলে আমি মনে করি । তাহলেই কেবল আমরা প্রবাসীরা কিছু সামনে এগুতে পারবো ।

অন্যতায় প্রবাসীদের জন্য এই কান্না কিংবা উদ্যোগ আমাদের নিকট কেবলই মায়া কান্না বলেই মনে হবে । আর জালালাবাদ এসোসিয়েশনের বর্তমান নেতৃবৃন্দ যদি সাধারণ সদস্যদের ম্যান্ডেড নিয়ে এসোসিয়েশনকে এভাবে দলীয় কাজে ব্যাবহার করে থাকেন তাহলে আমার কিছুই বলার নেই !!

 

সংবাদটি শেয়ার করুন