রবিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১ খ্রীষ্টাব্দ | ৪ আশ্বিন ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

 

জাহাঙ্গির কবির নানকের অবদানেই হাবিব ম্যাজিক এবং নৌকার জয়



সাজলু লস্কর : আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য জাহাঙ্গির কবির নানকের অবদানেই হাবিব ম্যাজিক এবং নৌকার জয়- এমনটাই ঘটেছে সিলেট-৩ আসনের উপনির্বাচনে। আওয়ামী লীগের মত বিশাল একটি দলের ঐক্য ধরে রেখে দলীয় প্রার্থীর জয় নিশ্চিতে তার দূরদর্শী নেতৃত্বের প্রশংসায় এখন পঞ্চমুখ আওয়ামী লীগ, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী এবং সচেতন ভোটাররা।

সিলেট-৩ দক্ষিণ সুরমা, ফেঞ্চুগঞ্জ ও বালাগঞ্জ আসনের উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে গতকাল শনিবার। নির্বাচনে ৬৫ হাজারের বেশি ভোটের ব্যবধানে জয় পেয়েছেন আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা’র প্রার্থী হাবিবুর রহমান হাবিব। এমন তাক লাগানো সাফল্যের নেপথ্যে বিশাল অবদান রেখেছেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী, বীর মুক্তিযোদ্ধা জাহাঙ্গির কবির নানকসহ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ।

সিলেট-৩ আসনটি দীর্ঘদিন থেকেই আওয়ামী লীগের দখলে। দলটির জনপ্রিয় নেতা মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী কয়েসের মৃত্যুর পর আসনটি শূণ্য হলে উপনির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। এ আসনে মনোনয়নের দৌড়ে মাঠে ঝাঁপিয়ে পড়েন আওয়ামী লীগের বাঘা বাঘা কয়েকজন নেতা।

তবে শেষ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা ভরসা রাখেন তরুণনেতা হাবিবুর রহমান হাবিবের উপর। প্রায় ২৫ জনকে টপকে নৌকার মাঝি হিসাবে তাকেই মনোনয়ন দেন তিনি।

এরপর সিলেট আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরিন বিরোধ নিয়ে শুরু হয় নানা আলোচনা সমালোচনা। অনেকেই ধারণা করেছিলেন, দলটির ভেতরের কোন্দলের কারণে ২০১৮ সালের সিটি করপোরেশন নির্বাচনে সাবেক মেয়র বদর উদ্দিন আহমদ কামরানের পরিণতি বরণ করতে যাচ্ছেন হাবিব। এমন কথাবার্তা নির্বাচনী এলাকার সীমানা পেরিয়ে গোটা সিলেট বিভাগে ছড়িয়ে পড়েছিল বেশ জোরেশোরে।

বিষয়টি নিয়ে শুরু থেকেই সচেতন ছিলেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী জাহাঙ্গির কবির নানক। তিনি সিলেট-৩ আসনের উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় নেতাদের নিয়ে কখনো রাজধানী ঢাকায়, কখনোবা সিলেটে সভায় বসে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। স্থানীয় নেতাদের অভ্যন্তরিন দূরত্ব বা গ্যাপ দূর করার প্রাণপণ চেষ্টা করেছেন এবং সফলও হয়েছেন।

এমনকি এ ব্যাপারে কাজ করতে তিনি নিজে সিলেট এসেছেন অন্তত দুইবার। দলটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম হানিফ, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, শফ্সিউল আলম চৌধুরী নাদেল, এসএম কামালসহ আরও একাধিক কেন্দ্রীয় নেতা, যুবলীগ,ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবকলীগসহ নেতৃবৃন্দও ছিলেন তার সাথে। তাদের সবাইকে সাথে নিয়ে তিনি সিলেট আওয়ামী লীগকে ঐক্যবদ্ধ করতে এবং সেই ঐক্য ধরে রাখতে কঠোর পরিশ্রম করেছেন।

বীর মুক্তিযোদ্ধা জাহাঙ্গির কবির নানক অতীতেও বিভিন্ন দুর্যোগে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে অত্যন্ত দূরদর্শিতার পরিচয় দিয়েছেন। সিলেট-৩ আসনের উপনির্বাচনেও তিনি তার প্রমাণ দিয়েছেন। দুইবার সিলেট সফরে এসে স্থানীয় নেতাকর্মীদের মানসিক দূরত্ব হ্রাসের পাশাপাশি তাদের উজ্জীবিত করতেও বিশেষ ভূমিকা রেখেছেন নানক।

এছাড়া গণসংযোগ জনসভা ও পথসভায় বক্তব্য রেখেছেন। হাবিবের যোগ্যতা ও সক্ষমতার বিষয়গুলো সাধারণ মানুষের সামনে তুলে ধরেছেন। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে হাবিবুর রহমান হাবিবকে সন্তানতুল্য মনে করেন, ভালবাসেন তাও তিনি চমৎকারভাবে নির্বাচনী এলাকার মানুষকে বুঝাতে সক্ষম হয়েছেন।

গতকাল শনিবারের উপনির্বাচনে বিশাল ব্যবধানে নৌকার জয় নানকের কঠোর পরিশ্রম আর দূরদর্শি নেতৃত্বেরই ফসল বলে স্বীকার করছেন সিলেট জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ, অঙ্গ ও সহযোগী বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

সংবাদটি শেয়ার করুন