সোমবার, ২১ জুন ২০২১ খ্রীষ্টাব্দ | ৭ আষাঢ় ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

ঘিলাছড়া ইউনিয়নে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে রোগীদের মহাদূর্ভোগ (ধারাবাহীক সরেজমিন প্রতিবেদন-১)



মোঃ দেলওয়ার হোসেন পাপ্পুঃ ফেঞ্চুগঞ্জে ডাক্তারদের গাফিলতি আর কতৃপক্ষের অবহেলা ও উদাসীনতায় চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত উপজেলার ঘিলাছড়া ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে আসা রোগীদের। ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আওতাধীন ইউনিয়ন সাব সেন্টার হিসেবে স্বীকৃত। অভিযোগ রয়েছে দায়িত্বশীলদের সরকারি নিয়মে কর্তব্য পালনের বিধি-বিধান থাকলেও শহর থেকে হাসপাতালে ডাক্তার আসেন মাসে দু’দিন আর ফার্মাসিস্ট আসছেন কখনও দুপুরে আবার কখনও বিকালে। তবে একজন মেডিকেল এসিসট্যান্ট (সেকমো) পদ থাকলেও হাসপাতালে আসেননা কখনও। এভাবে নিজ খেয়াল খুশিমত চলছে সরকারি এই চিকিৎসা সেবা কেন্দ্র। রোগীদের অভিযোগ সরকারি সকল সুযোগ সুবিধা ভোগ করে দায়িত্বশীলরা প্রতারনা করছেন। ফলে চরম দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে তাদের। সরেজমিন পরিদর্শনে সত্যতা পাওয়া যায় এসব অভিযোগের।

ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা সদর থেকে প্রায় ৭ কিলোমিটার পূর্বে কুশিয়ারা নদীর তীরবর্তী ভাটিঅঞ্চল অধ্যুসিত মানিককোণা গ্রামে আশির দশকে স্থাপিত হয়েছিল ঘিলাছড়া ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র। শুধুমাত্র ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা নয় পার্শ্ববর্তী গোলাপগঞ্জ উপজেলার হাওরতলা, ফতেহপুর ও মীরগঞ্জ থেকে প্রায় ২০ হাজার জনসংখ্যার চিকিৎসা সেবার একমাত্র নির্ভরযোগ্য হাসপাতাল ছিল ঘিলাছড়া ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র। গত সোমবার (২ জানুয়ারী) সকাল সাড়ে ১০ টায় ঘিলাছড়া ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায় হাসপাতালের দরজা বন্ধ। খবর পেয়ে দু’তলা আবাসিক ভবন থেকে নেমে আসেন হাসপাতালের পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা সুরাইয়া আক্তার। তিনি জানান, এই হাসপাতালের ইনচার্জ ও মেডিকেল অফিসার ডাঃ হাফিজুল ইসলাম, ফার্মাসিস্ট ওয়াহিদুজ্জামান চৌধূরী, এমএলএসএস এনায়েত ও আমি দায়িত্বে রয়েছি। বেলা বাড়ার সাথে সাথে দুপুর ঘনিয়ে এলে রোগীদের ভীড় লেগে যায় হাসপাতালের সম্মূখে। তবে এ সময় পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা সুরাইয়া আক্তার ছাড়া কারো উপস্থিতি ছিল না হাসপাতালে।

সাংবাদিক পরিচয় জানতে পেরে উপস্থিত রোগীদের অভিযোগের যেন অন্ত নেই। কথা হয় চিকিৎসা নিতে আসা মানিককোণা গ্রামের আহমুদ আলী (৮০), নিজাম উদ্দিন (৩৮), সুলতানপুর গ্রামের কামাল হোসেন বাঙ্গালী (৬০), ফতেহপুর গ্রামের আমীন উদ্দিন (৯০) ও হাওরতলা গ্রামের ছুরেতুন্নেছা (৫৫)’র সাথে। তারা এ প্রতিবেদককে জানান, আবাসিক সুযোগ সুবিধা থাকা সত্বেও মেডিকেল অফিসার ডাঃ হাফিজুর রহমান সিলেট শহরে বসবাস করছেন। ২/৩ সপ্তাহ পর পর তিনি হাসপাতালে আসেন তাও সল্প সময়ের জন্য, যা পরিদর্শনের ন্যায়। ফার্মাসিস্ট ওয়াহিদুজ্জামান চৌধূরী প্রতিদিনই আসেন তবে দুপুরের পর, এ সময় অপেক্ষার প্রহর গুণে রোগীরা ফিরে যান আপন গন্তব্যে। এভাবে এমএলএসএস এনায়েত কর্তাদের পথ অনুসরণ করে চলেছেন। যেনো নিয়মনীতির তোয়াক্ষা নেই এই চিকিৎসা সেবা কেন্দ্রে। তারা আরো জানান, সকালে হাসপাতালে আসা রোগীদের চাপে পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা সুরাইয়া আক্তারকে বিড়ম্বনায় পড়তে হয়, আউটডোরে নিজের দায়িত্বের বাহিরেও সাধারণ রোগীদের ব্যবস্থাপত্র দিতে হয় তাকে।

এ ব্যাপারে ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ শফিকুল আলম জানান, এসব অভিযোগ পেয়ে আমিও নিজে পরিদর্শনে যেয়ে সত্যতা পেয়েছি, আমি পুণরায় সেখানে যাব। সিলেটের সিভিল সার্জন ডাঃ মোঃ হাবিবুর রহমান জানান, দায়িত্বশীলদের কর্তব্যে গাফিলতি দুঃখজনক। সরকারি বেতন-ভাতা ভোগ করবেন আর দায়িত্বে অবহেলা করবেন তা হয় না। তিনি আরো জানান, সরকারী বিধি অনুযায়ী সকাল সাড়ে ৮ টা থেকে বেলা আড়াইটা পর্যন্ত তাদের কর্মস্থলে থাকার বিধান রয়েছে। এ ব্যাপারে জরুরী ভিত্তিতে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে বলে জানালেন সিভিল সার্জন ডাঃ মোঃ হাবিবুর রহমান। মঙ্গলবার দুপুরে ঘিলাছড়া ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের মেডিকেল অফিসার ডাঃ হাফিজুল ইসলামকে মুঠোফোনে কল করলে তা রিসিব করেননি তিনি।

ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা ও পার্শ্ববর্তী গোলাপগঞ্জ উপজেলার প্রায় ২০ হাজার জনসংখ্যার চিকিৎসা সেবার মানউন্নয়নে ঘিলাছড়া ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রকে সচল রাখার জন্য মাননীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সু-দৃষ্টি কামনা করেছেন অসহায় ইউনিয়নবাসী।

 

সংবাদটি শেয়ার করুন