রবিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১ খ্রীষ্টাব্দ | ৪ আশ্বিন ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

 

ইউনেসকোর (UNESCO) দরজায় শখের হাঁড়ি, খেজুর রস…



ডেইলি ফেঞ্চুগঞ্জ ডটকম : গ্রামীণ বাংলার গৃহিণীদের ঘর সাজানোর অন্যতম সম্বল ছিল শখের হাঁড়ি। নানা রঙে- নকশায় তৈরি মাটির সেই হাঁড়ির প্রচলন বলতে গেলে উঠেই গেছে। শখের এই হাঁড়িকে বিশ্ব ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি দিতে গত মার্চে জাতিসংঘ শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি সংস্থার (ইউনেসকো) কাছে আবেদন করেছে বাংলা একাডেমি।

শুধু এ হাঁড়ি নয়, আরও দুটি ঐতিহ্যকে স্বীকৃতি দিতে বাংলাদেশ থেকে আবেদন করা হয়েছে। এর একটি দেশের দক্ষিণ–পশ্চিমাঞ্চলের বিখ্যাত খেজুরের রস, অন্যটি বাংলা সাহিত্যের সম্পদ চর্যাগীতি।

বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক হাবীবুল্লাহ সিরাজী বলেন- ‘ওই তিনটি উপাদান ছাড়াও আমরা ‘রিকশাচিত্র’কে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য ইউনেসকোর কাছে আবেদন করেছিলাম। কিন্তু কিছু প্রক্রিয়াগত সমস্যার কারণে তা হয়নি। আমরা আবারও ভালোমতো প্রস্তুতি নিয়ে রিকশাচিত্রকে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য আবেদন করব।’

খেজুর রসকে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য হিসেবে ঘোষণা দেওয়ার পক্ষে যুক্তি হিসেবে বাংলা একাডেমি থেকে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে খেজুর ফল হিসেবে খুব বেশি আহরণ করা হয় না। মূলত খেজুরগাছ থেকে রস আহরণ করা হয়। এর জন্য একটি আলাদা সম্প্রদায় আছে। রস জ্বাল দেওয়া, বিশেষ ধরনের মাটির পাত্রে তা সংরক্ষণ, এটি দিয়ে তৈরি পিঠাসহ সব মিলিয়ে এটি বাংলাদেশে একটি সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের জন্ম দিয়েছে।

স্বীকৃতি পেতে আবেদনে বাংলা একাডেমি বলেছে- রাজশাহী অঞ্চলের বাসিন্দারা ঘরে শৌখিন সামগ্রী সংরক্ষণ এবং উৎসবে বিশেষ ধরনের শখের হাঁড়ি তৈরি করে। মূলত কৃষিপ্রধান ওই অঞ্চলের বড় বড় হাটে বিভিন্ন ধরনের শৈল্পিক কারুকার্যমণ্ডিত পাত্র বিক্রি হয়। দুই যুগ আগেও রাজশাহী অঞ্চলের সাড়ে চার হাজার পরিবার এ হাঁড়ি তৈরি করত। এখন হাতে গোনা কয়েকটি পরিবার মেলা উপলক্ষে তা করে থাকে।

চর্যাগীতিকে বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনতম নিদর্শন মনে করা হয়। হাজার বছর আগে এখানকার গায়ক, সাধকেরা চর্যাগীতির চর্চা করতেন। এটি হারিয়ে যাওয়ার পর ১৯০৭ সালে পণ্ডিত হরপ্রসাদ শাস্ত্রী তা নেপালের রাজদরবারের মহাফেজখানা থেকে উদ্ধার করেন। পরে আবারও নতুনভাবে এর চর্চা শুরু হয়েছে। বিষয়টি মাথায় রেখে মূলত একে বিশ্ব ঐতিহ্যের জন্য আবেদন করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে বিশ্ব ঐতিহ্যের জন্য আবেদনের দায়িত্বে থাকা বাংলা একাডেমির ফোকলোর বিভাগের উপপরিচালক আনিসুর রহমান সুলতান বলেন, ‘বাংলাদেশের সংস্কৃতির ওই তিনটি উপাদানের বাইরে আরও অনেক উপাদান রয়েছে, যেগুলো বিশ্ব ঐতিহ্যের সম্মান পেতে পারে। আমরা সেগুলো চিহ্নিত করার কাজ করছি।’

এর বাইরেও প্রতœতাত্ত্বিক অধিদপ্তর থেকে ২১৫টি প্রতœস্থানকে বিশ্ব ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতির আবেদন করার জন্য প্রাথমিকভাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। খুব শিগগির সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে মোট সাতটি থিমে ভাগ করা এসব স্থাপনার নাম ইউনেসকোর কাছে জমা দেওয়া হবে বলে জানা গেছে।

আজ বিশ্ব ঐতিহ্য দিবস : আজ বিশ্বজুড়ে একযোগে বিশ্ব ঐতিহ্য দিবস পালিত হবে। এবারের দিবসের প্রতিপাদ্য ‘জটিল অতীত, বৈচিত্র্যময় ভবিষ্যৎ’। মূলত ১৯৮৩ সাল থেকে ইউনেসকোর মাধ্যমে দিবসটি পালন করা হয়। সূত্রঃ প্রথম আলো

সংবাদটি শেয়ার করুন