সোমবার, ২ অগাস্ট ২০২১ খ্রীষ্টাব্দ | ১৮ শ্রাবণ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

 

আজ পবিত্র হজ



ডেইলি ফেঞ্চুগঞ্জ ডটকম : আজ পবিত্র হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা। পবিত্র আরাফাত দিবস। এদিন হজযাত্রীদের কণ্ঠে সমস্বরে উচ্চারিত হচ্ছে- ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক, লা শারিকা লাকা লাব্বাইক, ইন্নাল হামদা, ওয়ান নিয়ামাতা, লাকা ওয়াল মুল্‌ক, লা শারিকা লাকা।’ অর্থাৎ- হাজির হে আল্লাহ হাজির, আপনার মহান দরবারে হাজির। আপনার কোনো শরিক নেই। সব প্রশংসা, নিয়ামত এবং সব রাজত্ব আপনারই।

আজ ফজরের নামাজের পর থেকেই তাঁবুর শহর মিনা থেকে হজযাত্রীরা দু’টুকরো সাদা কাপড়ে আবৃত হয়ে যাত্রা শুরু করেছেন আরাফাতের ময়দানের উদ্দেশে। তাদের কণ্ঠে উচ্চারিত হচ্ছে তালবিয়া ‘লাব্বাইক’ ধ্বনি। এর আগে রোববার ফজরের নামাজের পর হজযাত্রীরা ইহরাম বাঁধেন। সে অবস্থায় তালবিয়া পাঠ করতে করতে ইসলামের পবিত্র স্থান মিনার তাঁবুতে গিয়ে অবস্থান করেন।

গতকাল সেখানে অবস্থান নিয়ে তারা ইবাদত বন্দেগিতে সময় পার করেন। এরপর আজ সোমবার ভোর থেকে ঐতিহাসিক আরাফাতের ময়দানে গিয়ে সমবেত হচ্ছেন। এ দিনটিকে বলা হয় আরাফাত দিবস। মুসলিমরা এদিনকে মূল হজ বলে থাকেন। এই আরাফাতের ময়দানে দাঁড়িয়ে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (স.) তার বিদায় হজের ভাষণ দিয়েছিলেন। ঘোষণা দিয়েছিলেন ইসলামের পূর্ণতা।

করোনার এই কঠিন সময়ে হজযাত্রীরা আল্লাহর কাছে সব রকম বিপদ থেকে মুক্তি, মুসলিম জাহানের শান্তির জন্য প্রার্থনা করবেন মহান আল্লাহর দরবারে। মিনা থেকে আরাফাতের ময়দানের দূরত্ব ৭ বা ৮ কিলোমিটার। দিনভর ইবাদতে সময় কাটাবেন সেখানে। জোহর ও আছরের নামাজ একত্রে আদায় করবেন। ঐতিহাসিক নামিরা মসজিদ থেকে নামাজের আগে খুৎবা দেবেন গ্রান্ড মুফতি। এরপর সূর্যাস্ত পর্যন্ত আরাফাতের ময়দানে অবস্থান করে হজযাত্রীরা আল্লাহর দরবারে মুনাজাত করে কান্নাকাটি করে সময় কাটাবেন। সূর্যাস্তের সঙ্গে সঙ্গেই ময়দান ত্যাগ শুরু করবেন। আরাফাতের ময়দান থেকে ফেরার পথে মুজদালিফায় রাত যাপন করে সৌদি আরবের স্থানীয় সময় ১০ জিলহজ মঙ্গলবার সকালে আবার মিনার তাঁবুতে ফিরবেন। সেখান থেকে গিয়েই জামারাহ’তে শয়তানের প্রতি প্রতীকী পাথর নিক্ষেপ করবেন। পশু কোরবানি করবেন এবং তাওয়াফে জিয়ারাহ, সাফা মারওয়া সাঈ করে আবার মিনার তাঁবুতে ফিরে আসবেন। পরের দুই দিনও একইভাবে মিনার তাঁবু থেকে গিয়ে জামারায় পাথর নিক্ষেপ করবেন। ১২ অথবা ১৩ জিলহজ পাথর নিক্ষেপ শেষ করে হাজিরা মিনার তাঁবু ত্যাগ করে হজের কর্তব্যের সমাপ্তি ঘটাবেন। এরপর মক্কা ত্যাগ করার আগে বিদায়ী তওয়াফ করে যে যার অবস্থানে চলে যাবেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন