সোমবার, ২৩ নভেম্বর ২০২০ খ্রীষ্টাব্দ | ৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

পুলিশ সদস্যের বাড়িতেই নিভৃতে গড়ে ওঠে জঙ্গি আস্তানা!



ডেইলি ফেঞ্চুগঞ্জ ডটকম : সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর থানার খুব কাছে উকিলপাড়া এলাকায় এবং খোদ এক পুলিশ সদস্যের বাড়িতেই নিভৃতে গড়ে ওঠে কথিত জঙ্গি আস্তানাটি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখে ধুলো দিয়ে বৃহত্তর সিরাজগঞ্জ-পাবনা অঞ্চলে সামরিক প্রশিক্ষণ, প্রচার-প্রচারণা বা নাশকতার পরিকল্পনার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছিল বাড়িটি। বৃহস্পতিবার চার জঙ্গিকে গ্রেফতারের পর তাদের কাছ থেকে জানতে পেরে শুক্রবার ভোরে এই আস্তানায় অভিযান চালায় র‌্যাব। কীভাবে পুলিশ ও স্থানীয়দের চোখ ফাঁকি দিয়ে এখান থেকে জঙ্গিরা সংগঠিত হচ্ছিল, তা নিয়েই এখন চলছে বিশ্লেষণ।

পাঁচ ঘণ্টার অভিযানে ওই বাড়ি থেকে বিপুল পরিমাণ জেহাদি বই, দুটি বিদেশি পিস্তল ও বোমা তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধারের কথা জানায় র‌্যাব। অভিযানে চার সন্দেহভাজন জঙ্গি আত্মসমর্পণ করে।

ঢাকার কদমতলীতে কর্মরত কৈজুরী ইউনিয়নের মৃত জনাব আলীর ছেলে পুলিশ সদস্য নুরু ইসলামের পাকা একতলা বাড়িতেই ছিল জঙ্গি আস্তানা। পাশে তার ভায়রা প্রকৌশলী শামসুল হকের আরেকটি একতলা টিনশেড বাড়ি রয়েছে। নুরু পুলিশ বা শামসুল হকের ভায়রা ওষুধ ব্যবসায়ী আবদুল্লাহ আল মামুন গত ৫ নভেম্বর শিক্ষার্থী পরিচয়ে আসা চার জনকে ভাড়া দেন বাড়িটি। ভাড়াটিয়াদের সঠিক নাম-ঠিকানা বা পরিচয় যাচাই না করেই ভাড়া দেওয়া হয়। থানা পুলিশেও ভাড়াটেদের তথ্য জমা দেওয়া হয়নি। থানার খুব কাছে হলেও গত দুই সপ্তাহে পুলিশের গোয়েন্দাদের নজর এড়িয়ে যায় বাড়ির সদস্যদের তৎপরতা।

আজ শনিবার (২১ নভেম্বর) সরেজমিনে গেলে বাড়ির সামনে র‌্যাব সদস্যদের পাহারায় থাকতে দেখা যায়। এলাকাবাসী জানান, জঙ্গিরা নুরু পুলিশের বাড়িতে থাকতো। অপরদিকে, ওষুধ ব্যবসায়ী আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, তার ভায়রা প্রকৌশলী শামসুল হকের বাড়িটি গত ৫ নভেম্বর চার জন সুদর্শন যুবক ভাড়া নেয়। জাতীয় পরিচয়পত্র জমা না দিলেও দুই জন অভিভাবক নিয়ে এসে ছাত্র পরিচয়ে তারা ভাড়া নেয়। তাদের দেখে প্রাথমিকভাবে কোনও সন্দেহ তৈরি হয়নি। পরে র‌্যাবের অভিযানে তাদের আটকের খবর জেনে আমরাই হতবাক হয়েছি।

শাহজাদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাহিদ মাহমুদ খান আজ শনিবার দুপুরে বলেন- অপরিচিত কেউ ভাড়া নেওয়ার আগে পুলিশ সদর দফতরের পাঠানো একটি ফরম ভাড়াটের কাছ থেকে পূরণ করিয়ে নিতে হবে। বাড়িওয়ালাদের এই ফরম সরবরাহ করা আছে। করোনার কারণে এটি কড়াকড়িভাবে আদায় করা সম্ভব হয়নি।

সূত্রঃ বাংলা ট্রিবিউন

সংবাদটি শেয়ার করুন