মঙ্গলবার, ২৪ নভেম্বর ২০২০ খ্রীষ্টাব্দ | ১০ অগ্রহায়ণ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

যোদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি চান ড্রাইভার দুধু ময়িা (ভিডিও সহ)



জুলহান চৌধুরী : যোদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি চান ড্রাইভার দুধু ময়িা। ড্রাইভার দুধু মিয়া ১৯৭১ সালে যুদ্ধ চলাকালীন সময় ফেঞ্চুগঞ্জ মনিপুর চা বাগানের ম্যানেজারের জীপ চালক ছলিনে। যুদ্ধ চলাকালীন সময় ডিউটিরত অবস্থায় ত্রকদিন পাক বাহীনি মনিপুর চা বাগানে আসে, তারা প্রথমে বাগানের ম্যানেজারকে জিজ্ঞেস করে মুসলিম কি না? তার পর সহকারী ম্যানেজার শফিউর রহমানকে জিজ্ঞেস করে, তার পর তার গোফ ধরে টানে বলে এই আসল মুক্তি, তাকে বন্ধুকের নল দিয়ে তার হাত, কাধ ও কোমরে আঘাত করে, যার ক্ষত চিন্ন তিনি এখন ও বয়ে বেড়াচ্ছেন।

গতকাল কথা হয় দুধু মিয়ার সাথে- তিনি জানান তার বাড়িতে কয়েক জন মুক্তিযোদ্ধাকে আশ্রয় দেওয়ার কথা জানতে পারে পাকবাহিনী যার জন্য তাকে ধরে নিয়ে যায় ক্যাম্পে। আর দুই ম্যানেজারকে আহত করে ফেলে রেখে যায়। তারা দুজনই চাকরি ছেড়ে প্রানের ভয়ে পালিয়ে যান। কিছু দিন পর মারা যান ম্যানেজার সৈয়দ রাহাতুর রহমান, সহকারী ম্যানেজার শফি উদ্দিনের আর কোন খবর পাননি দুধু ময়িা। সেখানে তাকে নিয়ে বেদড়ক মার ধর কর। পরে তার পরিচিত বাহাদুর খান নামে একজন তাকে ছাড়িয়ে দেন।

তিনি আরো বলেন আমার বাড়িতে মুক্তি আসে, মুক্তবাহীনি থাকে এটা পাঞ্জাবী কি করে জানবে! তাদের কাছে রাজাকাররা খবর দিত। সেই সব রাজাকারের নাম ও তিনি বুলনে, তবে এদের কেউই এখন বেচে নাই। পাকিস্তানি ক্যাম্প থেকে ফিরে বাগানে এসে দেখেন বড় ম্যানেজার ছোট ম্যানেজার কেউ নেই! কোথায় যাবেন ভেবে পাচ্ছিলেন না। এ রকম ই এক রাতে আবার আসেন সেই সব মুক্তিযোদ্ধারা তারা এসে বলে তুমি যখন এত নির্যাতিত হলে তখন আর এখানে থেকে কি করব?

আর এখানে তো কেউ নেই তুমি আমাদরে সাথে চল। কোন কিছু না ভেবে বউ বাচ্চাকে রেখে বাগানের গাড়ি নিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে চলে যান ভারতরে কৈলাশহর। সখোনে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টেরে ক্যাম্পে গেলে ক্যাম্প মেজর তাকে সেখানকার গাড়ি চালানোর দায়িত্ব দেন। তিনি দেশ স্বাধিনের আগ পর্যন্ত তিনি সেখানে গাড়ি চালান, সেখানে তিনি আরো অনকে লোককে পেয়েছেন। তবে তিনি ক্যাম্প মেজর বা ক্যাপ্টেন কারো নাম বলতে পারেন না…!

৯২ বছর বয়স এখন দুধু মিয়ার। ঠিক মতো সব কিছু মনে রাখতে পারেন না! ক্যাম্প থেকে আসার সময় কোন কাগজ ও সাথে আনেন নাই! বল্লেন তখন ভাবিনি যে কাজে লাগব…! তাই আর কোন কিছু আনা হয়ন! ক্যাম্প থেকেএসে আবার বাগানের গাড়ি চালান দুধু মিয়া।

র্দীঘ প্রায় বারো বছর যাবৎ ঘরে বসে- আর নামায পড়ে দিন কাটছে দুধু মিয়ার। তার স্ত্রী রেনু বেগম বল্লেন বাবারে আমার বড় ছেলে ছয় বছরের যখন যুদ্ধ চলে, আমাদের রেখে তিনি চলে যান। অনেক কষ্টে আমি তাদরে দেখে রাখি, পাচ ছেলে তিন মেয়ে পিতা দুধু মিয়া, বয়সের ভারে নুয্য! চার বছর আগে উর্পাজন কারী বড় ছেলে চেরাগ আলী মারা গেলে আবারও সমস্যায় পড়েন তনি। হাল ধরেন মেজ ছলে, তিনি মেয়েকে বিয়ে দিতে গিয়ে যা সম্বল ছিল তা ও শেষ হয়ে গেছে…!

এখন বিনা চিকিৎসায় দিন কাটছে দুধু মিয়ার। বাগানে চাকরি না থাকায় এখন তাকে থাকতে হচ্ছে ওয়াবদার সামান্য খাস জমতি। এখন তার আবদার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসনিার কাছে তিনি যেন তাকে যোদ্ধাহত মুক্তিযুদ্ধার স্বীকৃতি প্রদান করেন! এবং তার ত্রকটি সন্তান কে যেন চাকরির ব্যবস্থা করে দেন- এই আবেদন দুধু ড্রাইভার মিয়ার…।

সংবাদটি শেয়ার করুন