মঙ্গলবার, ২৪ নভেম্বর ২০২০ খ্রীষ্টাব্দ | ১০ অগ্রহায়ণ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

মৃত্যুর আগে ‘বীরাঙ্গনা মুক্তিযোদ্ধা খেতাব’ দেখে যেতে চান আমিনা বেগম



জুলহান চৌধুরী পাকবাহিনীর নির্যাতনে বাড়ি ঘর জায়গা সম্পদ ফেলে পালিয়ে যান কমোদ রন্জন দাস (খোকা বাবু) ও তার পরিবার। ১৯৭১ সালে পাকবাহিনী যখন ফেঞ্চুগঞ্জে অবস্থান করে তখন তাদের দোসর রাজাকারদের সহযোগীতায় আনেক নিরিহ মানুষের উপর ও হামলা করে!

তেমনি পাকিস্তানী দোসররা হঠাৎ একদিন ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার কর্মদা গ্রামে (খোকাবাবুর) বাড়িতে ত্রসে পেয়ে যায় তাকে, হিন্দু না মুসলিম জানতে চেয়ে কাপড় খুলে হিন্দু দেখে তাকে বেদড়ক মারধর করতে থাকে! ত্রক পর্যায়ে তাকে মাটিতে ফেলে তার তল পেটে ও নাভিতে থেথলায়। অঞ্জান হয়ে পড়েন খোকা বাবু পাকবাহিনী মনে করে তিনি মারা গেছেন ভেবে ফেলে রেখে চলে যায়। তার পর  থেকে অসুস্থ হয়ে পড়েন খোকা বাবু। তার প্রসাবের রাস্তা দিয়ে রক্ত পড়ত সব সময় বলে জানান তার স্ত্রী সুকৃতি দাস। পেশায় কৃষক কুমোদ দাস আর কোন কাজ করতে পারেননি। যে কয়েক দিন বেচেছিলেন ডাঃ শরনাপন্ন থাকাতে হয়েছিল!
দেশ স্বাধিন হওয়ার পর স্বপরিবারে মুসলমান হয়ে যান খোকাবাবু তার নাম হয় মোঃ আবুল হোসেন আর তার স্ত্রী সুকৃতি রানী দাস হন আমিনা বেগম।  তাদের ঘরে তিন ছেলে ও এক মেয়ে। পেশায় সবাই দিন মজুর, তার মধ্যে বড় ছেলে পঙ্গু!
আমিনা বেগম জানান তার স্বামী কে মারধরের কয়েক দিন পর পাক বাহীনি রাজাকারদের সহযোগীতায় আবার তার বাড়িতে আসে তখন ছিল বৈশাখ মাস। তারা বাড়িতে ধান সিদ্ধ করছিলেন। এমন সময় পাক বাহীনি রাজাকারদের নিয়ে তার বাড়িতে ত্রসে তাকে ধরে নিয়ে যায় তাদের ক্যাম্পে। সেখানে তাকে তিন দিন তিন রাত রাখা হয় বলে জানান তিনি। তিন দিন পর তাকে ছাড়িয়ে নিয়ে আসেন তৎকালিন ইউপি সদস্য মরহুম আশ্রব আলী ও আজহর আলী। এর পর আর তারা কর্মদা নিজ গ্রাম ছেড়ে পালিয়ে যান পাশ্ববর্তী বালাগঞ্জ থানার কাইস্তঘাট গ্রামে। আর তখন ই লুটপাট হতে থাকে তাদের ধান চাল গাছপালা। সময়ের সাথে সাথে দখল হয়ে যায় তাদের জমি জমা…!
দেশ স্বাধিনের পর ত্রসে দেখেন রাজাকাররা তাদের সব কিছু দখল করে নিয়েছে। তাই ভয়ে আর নিজের ভিটেমাটিতে যাওয়া হয়নি আমিনা বেগমের পরিবারের।
উপায়ান্ত না দেখে আশ্রয় নেন পাশ্ববর্তী কচুয়াবহর গ্রামে। কদিন এবাড়ি কদিন ও বাড়ি এভাবে চলে তাদের জীবন সংগ্রাম। জীবিকার তাগিদে আমিনা বেগম অসুস্থ স্বামীর চিকিৎসা করাতে ও ছেলে মেয়েদের ভরন পোষন করাতে ঝিয়ের কাজ নেন…!
বড় ছেলে ত্রকটু বড় হতেই মায়ের সাথে সংসার সংগ্রামে নেমে পড়েন! হঠাৎ একটি দুর্গটনায় তার ডান হাত কেটে ফেলেতে হয়।এক সময় ছাড়তে হয় অস্হায়ী আশ্রয়স্হল। কোন এক ভদ্রলোক দয়া করে জায়গা করে দেন ওয়াপদা কলোনিতে। সেখানে থাকেন কয়েক বছর! পাশেই সামান্য খাস জমিতে এখন আছেন বীরাঙ্গনা আমিনা বেগম।
বয়সের ভারে নুয্য তিনি বিছনায় শুয়ে শুয়ে সেদিনের বিবিশিকার দিন গুলোর কথা বলছিলেন। অনেক কথাই তার অস্পষ্ট। ঠিক মত কথা বলতে পারেন না। তিন ছেলে ও মেয়ে বিবাহিত। আমিনা বেগম থাকেন তার মেয়ে ময়না বেগমের সাথে। অনাহারে অর্ধাহারে জীবন মৃত্যু র দুয়ারে ময়না বেগম…!
আমিনা বেগম জানান ত্রতদিন লোক লজ্জার ভয়ে তিনি মুখ খুলেননি! এখন তিনি শুনেছেন পাশ্ববর্তী দুই নারী তার মতই নির্যাতিত হয়েছিল তারা নারী মুক্তিযোদ্ধা স্বৃকিতি পেয়েছে। তাই তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে নিবেদন করেছেন তাকে যেন নারী মুক্তি যুদ্ধা খেতাবে ভুষিত করা হয়…!
কান্না জড়িত কন্ঠে আমিনা বেগম বলেন- মৃত্যুর আগে আমি এই সম্মান পেতে চাই ?
একটু ভালো ভাবে বেচে থাকেত পারেন যে কদিন বাচেন এইটুকু ই প্রত্যাশা বীরঙ্গনা আমিনার এবং পাশাপাশি তার জায়গা গুলো উদ্ধারে সরকারের সহযোগিতা চান, তিনি তার স্বামীর ভিটায় গিয়ে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করতে চান…!
সংবাদটি শেয়ার করুন