শুক্রবার, ২২ জানুয়ারী ২০২১ খ্রীষ্টাব্দ | ৯ মাঘ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

স্মৃতিচারণে আওয়ামীলীগ নেতা সিরাজুল ইসলাম পুতুল চাচা’র কথা : রনি হাসান



লিখার ইচ্ছেটা কয়েকটা লাইক শেয়ারের আশায় নয়, যা দেখছি যা হচ্ছে সেই পরিস্তিতি বিবেচেনায় লিখতে বাধ্য হলাম।

হ্যাঁ- বলছি সিরাজুল ইসলাম পুতুল চাচা’র কথা- যাকে চিনতে পারবে না আজকের ফেঞ্চুগঞ্জ আওয়ামীলীগ এবং তাদের সহযোগী সংগঠনের সেলফিবাজ নেতাকর্মীরা।

১ নং ফেঞ্চুগঞ্জ সদর ইউনিয়নের দুইবারের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন এবং ডাঃ মিনহাজ উদ্দিনের কমিটিতে সিনিয়র সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন।

যার ধ্যান, জ্ঞান মন মস্তিষ্কে ছিলো শেখ মুজিবের আদর্শ- আমি নিজে ছুটো বেলা থেকে দেখে আসছি উনি পরিবার পরিজন আয় রোজগার ছেড়ে শুধু আওয়ামিলীগের জন্য নিজেকে উৎস্বর্গ করে গেছেন।

১৯৯৬-২০০১ এই দুই নির্বাচনে সিরাজুল ইসলাম পুতুল চাচা অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন নৌকার বিজয় সুনিশ্চিত করতে, ২০০১ সালের নির্বাচনের সময় সেনাবাহিনী আমার চোঁখের সামনে ছত্তিশ স্কুলের নির্বাচনী কেন্দ্র থেকে ধরে নিয়ে যায় এবং নির্যাতন করে মনোবল ভেঙে দিতে কিন্ত মানুষটা যে ইস্পাত কঠিন মানসিকতার।

ছত্তিশ, পিটাইটিকর, বাগমারা এই তিন কেন্দ্রে স্বাধীনতা পরবর্তী কোন নির্বাচনে আওয়ামীলীগ’কে কেও পরাজিত করতে পারেনি, এখানে আওয়ামীলীগের শক্ত অবস্থানের পেছনে যে ব্যক্তি দিনরাত পরিশ্রম করে গেছেন তিনি আমাদের সবার প্রিয় পুতুল চাচা।

২০০১-২০০৫ সারাদেশের মতো ফেঞ্চুগঞ্জেও আওয়ামীলীগ কমবেশি অত্যাচারিত, নিপীড়িত ছিলো তখন অনেকে হামলা মামলার ভয়ে দল ত্যাগ করে সুবিধাবাদীর খাতায় নাম লিখিয়েছেন, এখনকার অনেক নেতা তো নির্বাচনের আগের দিন আওয়ামীলীগের পরাজয়ের আভাস পেয়ে দেশ ছেড়ে পালিয়ে বিলেতবাসী হয়েছিলেন।

চ্যালেঞ্জ দিয়ে বলছি আমাদের তিনগ্রামে সিরাজুল ইসলাম পুতুল চাচার গড়ে দেয়া মজবুত ভিত্তির উপরে এখনও দাঁড়িয়ে আছে আওয়ামীগ এবং যা কিনা এই সিলেট ৩ আসনের সব থেকে বড়ো ভোট ব্যাংক হিসেবে পরিচিত।

আজ আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় ফেসবুক জুড়ে শুধু চেয়ে দেখি ফেঞ্চুগঞ্জের আওয়ামী রাজনীতির হালচাল, মনে কষ্ট নেইনা এবং নেয়ার যৌক্তিক কোন কারণ দেখিনা তবে মাঝে মাঝে ইমাজিন করি ২০০১-২০০৫ সালে গুগল ইউটিউব যাদেরকে খুঁজে বের করতে পারেনি আজ তারা সামনের আসনে আসীন।

যারা দলের জন্য নিজের শৈশব-কৈশর যৌবন বিলিয়ে দিয়ে রাজপথ কাঁপিয়েছে, যাদের সংগ্রামী ভূমিকা পালনে নৌকার পালে হাওয়া লেগেছিলো আজ তাদের একজন পুতুল চাচার এতিম তিনটা মেয়ে ভাঙা ঘরে বসবাস করছে এবং অন্যের মুখাপেক্ষী হয়ে আছে।

মাননীয় এমপি মহোদয় আপনি তো পুতুল চাচার জানাজায় গিয়েছিলেন এবং বলেছিলেন এই তিনটা এতিম সন্তানদের প্রতি আপনার সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিবেন, ঘর বানিয়ে দিবেন কিন্ত আজ দীর্ঘ নয় বছর পুতুল চাচা আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন, একটি বার ফেঞ্চুগঞ্জ আওয়ামী পরিবার তথা সংশ্লিষ্ট কেও খোঁজ খবর রাখেনি এই অসহায় পরিবারের প্রতি।

উড়ে এসে জুড়ে বসা অনেক নেতা আজ সাইকেল থেকে এলিয়েন গাড়ির মালিক, খালি পাঁয়ে মাইজগাঁও বা থানা রোডে আসা অনেকের চলার বাহন হচ্ছে ইন্ডিয়ান পালসার কিন্ত পুতুল চাচার মতো ত্যাগী নেতার মেয়েরা না খেয়ে ভাঙা ঘরে ঘুমায়।

শওকত চাচা, টুটুল ভাই, নুরুল চাচা আপনারা কিভাবে ভুলে গেলেন আপনাদের এই সহযোদ্ধার কথা, প্লিজ বাবলু ভাইকে ফোন দিয়ে একটা বার ওই ঝীর্ণ ভাঙা ঘরে এতিম মেয়েগুলোর সাথে কথা বলে আসুন তাহলে আল্লাহ’কে খুশি করতে পারবেন।

অনেক কিছুর বলার ছিলো কিন্ত সারাদিনের ক্লান্ত শরীর বিদায় নিলো ভালো থাকবেন সবাই।

রনি হাসানঃ শুন্য দশকের তরুন লেখক, প্যারিস প্রবাসী।

সংবাদটি শেয়ার করুন