সোমবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২১ খ্রীষ্টাব্দ | ৫ মাঘ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

রায়হান হত্যা মামলার তদন্ত দুই সপ্তাহের মধ্যে শেষ হচ্ছে বলে হাইকোর্টকে জানিয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ



আহাদ আম্বিয়া খোকম : সিলেটে পুলিশ হেফাজতে রায়হান হত্যা মামলার তদন্ত দুই সপ্তাহের মধ্যে শেষ হচ্ছে বলে হাইকোর্টকে জানিয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ।

আজ সােমবার (২ নভেম্বর) বিচারপতি মাে.মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি মহি উদ্দিন শামীমের ভার্চুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চ এ বিষয়ে করা রিট আবেদন ১৬ নভেম্বর পর্যন্ত মুলতবি করেন।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নওরােজ রাসেল চৌধুরী ।

আবেদনের পক্ষে ছিলেন রিট আবেদনকারী আইনজীবী সৈয়দ ফজলে এলাহী।

আজ সােমবার আদালতে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন- আমাকে জানিয়েছেন দুই সপ্তাহের মধ্যে ওনারা (তদন্তকারী কর্মকর্তা) চার্জশিট দিয়ে দেবেন। অ্যাজ আর্লি অ্যাজ পসিবল টাইমের মধ্যে দিয়ে দেবেন। এরপর আদালত মুলতবি করেন। এর আগে ওই ঘটনায় সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত এবং ক্ষতিপূরণ চেয়ে রিট করেন আইনজীবী সৈয়দ ফজলে এলাহী।

এছাড়া নিরপেক্ষ তদন্ত ও ক্ষতিপূরণ চেয়ে আরেকটি রিট করেছিলেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ। সেটি অন্য বেঞ্চে বিচারাধীন। ওই রিটে পক্ষভুক্ত হতে গতকাল রােববার আবেদন করেছেন রায়হানের মা সালমা বেগম।

রায়হান উদ্দিন সিলেট নগরীর আখালিয়ার নেহারিপাড়ার রফিকুল ইসলামের ছেলে । তার তিন মাস বয়সী একটি মেয়ে রয়েছে । নগরের রিকাবিবাজার স্টেডিয়াম মার্কেটে এক চিকিৎসকের কাজ করতেন তিনি ।

গত ১১ অক্টোবর সিলেটের বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে নির্যাতনে গুরুতর আহত হন রায়হান। তাকে ওইদিন সকাল ৬ টা ৪০ মিনিটে গুরুতর আহত অবস্থায় ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন বন্দরবাজার ফাঁড়ির সেই সময়ের সহকারী উপ পরিদর্শক ( এএসআই ) আশেকে এলাহীসহ পুলিশ সদসরা। সকাল ৭ টা ৫০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান রায়হান। এ ঘটনার পর গত ১৩ অক্টোবর আশেকে এলাহীসহ চার পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। ঘটনার পর পুলিশের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছিল, নগরের কাস্টঘরে গণপিটুনিতে রায়হান নিহত হন। তবে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয় , সিলেট কোতােয়ালি থানাধীন বন্দরবাজার ফাঁড়িতে পুলিশি নির্যাতনে প্রাণ হারান রায়হান । এ ঘটনায় রায়হানের স্ত্রী তাহমিনা আক্তার তান্নি বাদী হয়ে কোতােয়ালি থানায় একটি মামলা দায়ের করেন । পরে সিলেট মহানগর পুলিশের তদন্ত কমিটি ঘটনার সত্যতা পেয়ে বন্দরবাজার ফাঁড়ির ইনচার্জ উপ – পরিদর্শক ( এসআই ) আকবর ও এএসআই আশেকে এলাহীসহ চার পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত ও তিনজনকে প্রত্যাহার করে। পুলিশ সদর দফতরের নির্দেশে মামলাটির তদন্ত কার্যক্রম চালাচ্ছে- পিবিআই। পরে মরদেহ কবর থেকে তুলে পুনঃময়নাতদন্ত করা হয়। রায়হানের দেহে ১১১ টি আঘাতের চিহ্ন মেলে ফরেনসিক রিপাের্টে।

তথ্যসুত্রঃ সিলেট প্রতিদিন

সংবাদটি শেয়ার করুন