শুক্রবার, ২২ জানুয়ারী ২০২১ খ্রীষ্টাব্দ | ৯ মাঘ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

যুক্তরাষ্ট্রে করোনা পরিস্থিতির উন্নতি, শুরু হয়েছে ঘুরে দাড়ানোর চেস্টা : আহবাব চৌধুরী খোকন



যুক্তরাষ্ট্রে গত কয়েক দিনে করোনা পরিস্থিতির বেশ উন্নতি হয়েছে। কমেছে মৃত্যুর হার এবং আক্রান্ত রোগীর পরিমান। আবার অনেকেই এখন সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে বাড়ী ফিরতে শুরু করেছেন । অবস্থা দৃষ্টে মনে হচ্ছে এখন যুক্তরাষ্ট্রবাসীর ভয় ও উদ্বেগ কিছুটা কমতে শুরু করেছে। উন্নতির এই ধারা অব্যাহত থাকলে দেশটির কিছু অঙ্গরাজ্য থেকে খুব শীঘ্রই লকডাউন প্রত্যাহার করা হতে পারে। বলে ধারনা করা হচ্ছে ।যদিও লকআটন নিয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও হোয়াইট হাউস প্রশাসনের সাথে কিছু রাজ্যের গভর্নরদের স্নায়ু যুদ্ধ চলছে ।প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অর্থনৈতিক দিক বিবেচনা করে লকডাউন তুলে নেয়ার কথা চিন্তা করলেও বিভিন্ন রাজ্যের গভর্ণরগণ তার সাথে দ্বিমত পোষন করছেন।

করোনাভাইরাসে মৃত্যু ও আক্রান্তের পরিমান বিবেচনায় শীর্ষে এখন যুক্তরাষ্ট্র ।  সারা বিশ্বে যত লোক করোনায় আক্রান্ত হয়েছে তার প্রায় এক তৃতীয়াংশ হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রে । এখানে এখন পর্যন্ত আক্রান্তের পরিমান প্রায় ছয় লাখ এবং মারা গেছেন প্রায় চব্বিশ হাজার লোক । তবে স্বস্থির খবর হচ্ছে এই সংকট ও আতংকের পর এখন মনে হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি শুরু হয়েছে । সুস্থতা বেড়েছে পূর্বের তুলনায় বেশী। আগে সুস্থতার পরিমান ছিল দিনে গড়ে ২ হাজার ,এখন বেড়ে হয়েছে ৪ হাজার । আক্রান্ত রোগীর পরিমান ও কমেতে শুরু করেছে।

নিউইয়র্কের গভর্নর এন্দ্রো কোমো বলেছেন- এটা হচ্ছে মানুষের লক ডাউনের সুফল। কোমো সবাইকে আরো দুই সপ্তাহ ঘর থেকে বের না হওয়ার অনুরোধ করেছেন।

যুক্তরাষ্ট্রে এ পর্যন্ত দেড় শতাধিক বাংলাদেশী নিহত হয়েছেন করোনার ছোবলে । তবে মনে হচ্ছে এটা কোন সঠিক হিসেব নয় । সকল অঙ্গরাজ্যে মিলে নিহত বাংলাদেশীদের সংখ্যা আরো অনেক বেশী হবে । এই ভাইরাস সবচেয়ে বেশী আঘাত হেনেছে নিউইয়র্কে ।

এই জন্য বাংলাদেশী অধ্যুষিত নিউইয়র্কেই কেবল শতাধিক বাংলাদেশী নিহত হয়েছেন।একজন চিকিৎসকের মতে নিউইয়র্কে ভারতীয় কিংবা পাকিস্তানী অভিবাসীদের চেয়ে বাংলাদেশীদের মৃত্যু হার বেশী।

নিহতদের রোহের মাঘফেরাত কামনা করে ও অসুস্থদের সুস্থতা কামনায় বাংলাদেশী সংগঠন গুলো প্রতিদিন রাজ্যে রাজ্যে আয়োজন করছে ভিডিও ও অডিও কনফারেন্স কলের মাধ্যমে দোয়া ,খতমে কোরআন সহ বিভিন্ন ধর্মীয় আয়োজন।

যুক্তরাষ্ট্রের ৫০ টি অঙ্গরাজ্যের মধ্যে ৪৬টি কম বেশী করোনা আক্রান্ত হয়েছে । এখন
পর্যন্ত পুরো যুক্তরাষ্ট্রে ৪৫ হাজার করোনা রোগী সুস্থ হওয়ার খবর নিশ্চিত করেছে বিভিন্ন সূত্র।

যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য রাজ্যের তুলনায় করোনা আক্রান্ত রোগীর পরিমাণ সবচেয়ে বেশী নিউইয়র্কে । নিউইয়র্কে আক্রান্তের পরিমান প্রায় দুই লাখ । এর মধইে মৃত্যু বরণ করেছ প্রায় ১১ হাজার । নিউইয়র্কের পর উদ্বেগজনক অবস্থা হচ্ছে নিউজার্সীতে। এখানে আক্রান্ত হযেছেন প্রায় ৬৫ হাজার এবং মারা গেছেন ২৪৪৩জন। মিশিগানে আক্রান্ত হয়েছেন প্রায় ২৬ হাজার এবং মারা গেছেন ১১৫ জন। ওয়াশিংটনে আক্রান্ত হয়েছেন ১০হাজার, ক্যালিফুনিয়ায় ২৪ হাজার, মেসাচুচেসে ২৭ হাজার, পেনসেলভেনিয়ায় ২৪ হাজার, ফ্লোরিডায় ২১ হাজার, লুসিয়ানায় ২১ হাজার, জর্জিয়ায় ১৪ হাজার, কানেকটিকাটে ১৩ হাজার ও টেক্সাসে ১৪ হাজার । এক সাথে আক্রান্তের পরিমান বেশী হওয়ায় রোগীদের চিকিৎসা দিতে হিমসিম খাচ্ছে হাসপাতাল গুলো।

লাশঘর, ফিউনারেল, বিভিন্ন স্থানে পড়ে রয়েছে মানুষের মরদেহ। লাশের চাপ থাকায় ফিউনারেল গুলোও তড়িৎ সার্ভিস নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হচ্ছে । ফলে লাশ দাপনও সৎকারে আত্নীয় স্বজনদের অনেক দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে । তবে আশার কথা হল বাংলাদেশ সোসাইটি, নিউইয়র্ক, জালালাবাদ এসোসিয়েশন অব আমেরিকা , মুনা সহ বাংলাদেশী অনেক মসজিদ ও সামাজিক সংগঠন এগিয়ে এসেছে দূর্গত বাংলাদেশী মানুষের পাশে । মৃত ব্যক্তিদের জন্য ফ্রী কবর, ফিউনারেল সাহায্য , গ্রোসারীসা হায্যসহ বিভিন্ন ভাবে সাহায্যে করে যাচ্ছে সকল সংগঠন ও ধর্মীয় প্রতিষ্টান গুলো ।

করোনা ভাইরাসের কারণে পুরো যুক্তরাষ্ট্র লক ডাউন হওয়ায় কর্মহীন হয়ে পড়েছেন প্রায সাড়ে ছয় মিলিয়ন মানুষ । প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দূর্গত মানুষকে সাহিয্য করতে ২ট্রিলিয়ন ডলারের একটি সহায়তা প্রকল্প ঘোষনা করেছেন । এই প্রকল্পের আওতায় বৈধ অবৈধ যুক্তরাষ্ট্রের সকল মানুষকে দেওয়া হচ্ছে বেকার ভাতা । ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য ৩৫০ বিলিয়ন ডলার এর একটি তহবিল গঠন করা হয়েছে । এতে সকল ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা নির্দিষ্ট একটা অনুদান ছাড়াও সহজ এবং কম সুদে ঋন গ্রহণ করতে পারবেন ।

ধারণা করা হচ্ছে আগামী দুই সপ্তাহের
মধ্যে করোনা পরিস্থিতির আরো উন্নতি হবে।গতকাল দেখা গেছে নিউইয়র্কের বিভিন্ন সিটিতে অনেক বাংলাদেশী গ্রোসারী ও রেষ্টেরেন্ট খোলে দেওয়া হয়েছে । গত তিন সপ্তাহ যাবৎ এই সকল প্রতিষ্টান বন্ধ ছিল।ফলে বাংলাদেশী অনেকের মনে কিছুটা স্বস্থি ফিরে এসেছে । মানুষ মাক্স ও গ্লোবস পরে এবং নির্দিষ্ট দুরত্ব বজায় রেখে এই সকল বাংলাদেশী প্রতিষ্টান সমুহ থেকে বাজার সদাই করতে শুরু করেছে । আর দেড় সপ্তাহ পরেই শুরু হচ্ছে মুসলিম সম্প্রদায়ের গুরুত্ব পূর্ণ মাস রমজান । এই মাসে মসজিদ গুলোতে কোরআনে খতমের তারাবী সহ পোরো মাস মুসলমান ইবাদত বান্দেগি করে থাকেন । কিন্তু করোনা পরিস্থিতির কারণে রমজানের পূর্বে মসজিদ গুলো আর খুলবে বলে মনে হচ্ছে না । একই ভাবে এই সময় ব্যস্ত থাকে রাংলাদেশী কমিউনিটি ও রেষ্টেরেন্ট গুলো ইফতার মাহফিল নিয়ে ।কিন্তু করোনার কারণে এবারের রমজান মাস যুক্তরাষ্ট্রে নিরবে নিবৃত্তে পালন করতে হবে ।তবে যুক্তরাষ্ট্রে করোনা পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় মানুষের মধ্যে কিছুটা স্বস্থি ফিরে আসলেও এই ভাইরাসের প্রতিশেধক বা বেকসিন আবিস্কার না হওয়া অবদি করোনা আতংক কাঠছে না । এই বেকসিন কবে কখন আবিস্কৃত হয় সেটা দেখার জন্য অপেক্ষায় আছে বিশ্ববাসী ।

(লেখক- সংগঠক ও কলাম লেখক, নিউইয়র্ক)

সংবাদটি শেয়ার করুন