শুক্রবার, ২২ জানুয়ারী ২০২১ খ্রীষ্টাব্দ | ৯ মাঘ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

বালি উত্তোলন কে কেন্দ্র করে ফেঞ্চুগঞ্জে আবারো খুন…



স্টাফ রিপোর্টারঃ ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার ঘিলাছড়া ইউনিয়নের পশ্চিম আশিঘর গ্রামের মোমিন ছড়ায় বালি উত্তোলনের সময় দুই ভাইকে বেদড়ক ভাবে পিটিয়েছে একই গ্রামের প্রভাবশালী কিছু মানুষ। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় একজনের মৃত্যু, অপরজনের অবস্থা সংকটাপন্ন।
গত ৫ই জুন সোমবার ভোর ৮ টার সময় পশ্চিম আশিঘর গ্রামের বাচ্চু মিয়ার দুই ছেলে মামুন মিয়া (৩০) ও রিমন মিয়া (২৫) নিজের ঘরের পাকার খুটি নির্মানের জন্য বালি তুলতে পার্শ্ববর্তী মোমিন ছড়ায় গেলে পাশের গ্রামের মৃত রসিদ মিয়ার ছেলে তাজুল (৩০), বিরাজ আলীর ছেলে এমরুল (৩০), আনোর আলীর ছেলে পারভেজ (২৮) তিন জন সংঘবদ্ধ ভাবে আক্রমন করে হত দরিদ্র দিন মজুর সহোদর মামুন ও রিমনের উপর।
প্রত্যক্ষদর্শী মজলু মিয়া জানান ভোর ৮টার দিকে আমি গরু চরাতে আসলে আড়াল থেকে দেখি এমরুল, তাজুল এবং পারভেজ বেদড়ক ভাবে কোদাল দিয়ে কাকে যেনো কুপাচ্ছে, পাশে গিয়ে দেখি আহতরা আমার এলাকার লোক। তাজুল মামুন মিয়ার মাথায় কোদাল দিয়ে বেশ কয়েকটা আঘাত করলে রক্তাক্ত অবস্থায় দুই ভাই মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। মৃত্যু নিশ্চিত না হওয়ায় মাটিতে পড়ার পরেও লাতি-ঘুষি দিতে থাকে এমরুল ও পারভেজ। রমজান মাস থাকায় সে স্থানে লোকজনের আনাগুনা ছিলো খুব কমই।আহতদের গগন বিধারী চিতকার কেউ শুনতে পাচ্ছে না। পরে প্রতিবেশী ফরহাদ নামের একজন এগিয়ে আসেন ।
খবর পেয়ে আক্রান্তদের বাবা বাচ্চু মিয়া (৭০) এবং প্রতিবেশীরা ঘটনা স্থলে আসলে আহতদের মাথা বেধে ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে রোগীদের মূমূর্ষ অবস্থা দেখে আক্রান্তদের সিলেট ওসমানী হসপিটালে প্রেরণ করা হয়।
চার দিন চিকিৎসার পর শুক্রবার সকালে মৃত্যুবরন করেন মামুন আহমদ। নিহতের আরেক ভাই রিমন আহমেদ সিলেট এম এ জি ওসমানী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছেন।হাসপাতালে যোগাযোগ করে জানা গেছে ভাইয়ের মৃত্যুর খবর শুনে রিমন মিয়ার অবস্থাও সংকটাপন্ন অবস্থায় আছে।
এলাকাবাসীরর ভাষ্যমতে মামুন মিয়ার হত্যাকারী আশিঘর গ্রামের মোমিনছড়া নদী থেকে অবৈধভাবে বালু তুলছিলেন অভিযুক্ত তাজুল-এমরুল-পারভেজ সহ এলাকার প্রভাব শালীরা উক্ত ছড়া থেকে বালি বিক্রি করে আসছেন দীর্ঘদিন যাবত। কেউ তাদের বিরুদ্ধে কথা বলার সাহস রাখে না, কারন অভিযুক্ত এতোই হিংস্র এবং প্রভাবশালী যে তারা যে কারো উপর অত্যাচার করতো।
একই গ্রামের ফয়জুন বেগম জানান প্রায় ৬ মাস আগে এক বালতি বালি আনতে গেলে তাজুল-এমরুল-পারভেজ এর সহযোগী ট্রলী ড্রাইভার বেলাই মিয়া তাদের নির্দেশে আমার উপর ট্রলী তোলার চেষ্টা করে। পরে আমি জান বাঁচাতে পার্শ্ববর্তী রাস্তার খাদে পড়ে যাই।
এলাকাবাসী সুত্রে যানা যায়, এই ছড়ায় সরকারের নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও অভিযুক্তরা সহ তাদের সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন থেকে অবৈধ ভাবে বালু বিক্রয় করে আসছে। তাদের ভয়ে গ্রামের কেউই নিজ প্রয়োজনে এক দানা বালি তুলতে পারে না। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এলাকার এক মুরুব্বী জানান, তাজুল-এমরুল-পারভেজ গংদের কারনে পশ্চিম আশিঘর গ্রামের রাস্তাটি নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। চুরি করে বালি বিক্রি করার জন্য ট্রাক্টর ব্যাবহার করা হয়।ট্রাক্টর চলার কারনে এলাকার কাচা রাস্তাটির বিভিন্ন অংশ নিশ্চিহ্ন।
এ ব্যাপারে এলাকাবাসী স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সাথে যোগাযোগ করলে প্রতিনিধিরা এলাকাবাসীকে পাত্তাই দেয় নি। নিহত মামুন মিয়ার বাবা এবং স্ত্রীর সাথে ডেইলী ফেঞ্চুগঞ্জের স্টাফ রিপোর্টার যোগাযোগ করলে তারা কিছুই বলতে পারেননি। ছেলের রক্ত এখনো লেগে আছে সত্তোর্ধ পিতা বাচ্চু মিয়ার শরীরে। হাউ-মাউ করে কান্না ছাড়া আপাতত কিছুই করতে পারছেন না তিনি। নিহতের মামা বদরুল ইসলাম জানান, প্রতিপক্ষ প্রভাবশালী হওয়ায় আমাদের জীবন হুমকীর মুখে রয়েছে।
এ বিষয়ে ফেঞ্চুগঞ্জ থানায় একাধিক মামলা হয়েছে। ফেঞ্চুগঞ্জ থানার এস আই শহিদুল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে গেছেন এবং ন্যায় বিচারের জন্য তিনি তার সর্বোচ্চ তদবীর করবেন বলে আশ্বাস দিয়ে গেছেন।

 

সংবাদটি শেয়ার করুন