শুক্রবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২১ খ্রীষ্টাব্দ | ১৪ ফাল্গুন ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

বন্দরবাজার পুলিশের ফাঁড়িতে এক যুবকের মৃত্যু!



সাইম মাহমুদ জনি : সিলেটের বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে আটকে পড়া এক যুবককে টাকা না দেওয়ার কারনে নির্যাতন করে মেরে ফেলার অভিযুগ ওটেছে। নিহত রায়হান আহমেদের পরিবারে পক্ষ থেকে পুলিশের নির্যাতনে মৃত্যুর অভিযোগ করা হচ্ছে। প্রথমে ছিনতাইকালে গনপিটুনিতে রায়হানে মৃত্যু হয়েছে বলে পুলিশ দাবি করলেও নির্যাতনের অভিযোগ ওঠার পর ঘটনাটির তদন্তে আশ্বাস দেন পুলিশ কর্মকর্তারা।

রোববার (১১অক্টোবর) ভোরে এই মৃত্যুর ঘটনাটা ঘটে। নিহত রায়হান আহমেদ (৩৪) নগরীর আখালিয়া এলাকায় নোহারি পাড়ার গুলতেরা মঞ্জিলের মৃত রফিকুল ইসলামের ছেলে। সে এক সন্তানের জনক। নগরীর স্টেডিয়াম মার্কেটস্থ ডাঃ আব্দুল গফারের চেম্বারে চাকরি করত। রায়হান আহমেদের মা সালমা বেগম ও চাচা হাবিবউল্লাহ এই অভিযোগ করেন।

কর্মস্থল চিকিৎসক চেম্বার থেকে ফিরতে দেরি দেখে শনিবার রাত ১০ টায় রায়হানের মোবাইলে ফোন দেন মা ও স্ত্রী। কিন্তুু তার মোবাইল বন্ধ পান। ভোরে ৪টা ২৩ মিনিটে মায়ের কাছে ফোনে কল আছে রায়হান বন্দরবাজারে পুলিশ ফাঁড়িতে আটকে আছে এবং ১০ হাজার টাকা দাবি করে। এই খবর শুনে রায়হানের মা তার চাচা হাবিবউল্লাহকে ৫হাজার টাকা দিয়ে সেখানে পাঠান তার চাচা হাবিবউল্লাহ ভাতিজাকে ছাড়িয়ে আনতে ফজরের সময়ে সেখানে ছুটে যান। এসয় সাদা পোষাক পরিধানকৃত পুলিশ কর্মকর্তাকে পান তিনি, তাকে বলেন আপনি ১০ হাজার টাকা নিয়ে আসার কথা, ৫ হাজার টাকা নিয়ে আসলেন কেন? রায়হান এখন ঘুমাচ্ছে আর যে পুলিশ কর্মকর্তা তাকে এখানে ধরে নিয়ে এসেছেন তিনিও এখানে নাই। আপনি সকালে ৯টার দিকে আসবেন। সাতে ১০ হাজার টাকা নিয়ে আসবেন। তাহলে তাকে নিয়ে যেতে পারবেন। তাকে আমরা র্কোটে চালান করবোনা।

একথা শুনে চাচা হাবিবউল্লাহ বাসায় চলে যান এবং তিনি সকাল ৯ টা দিকে টাকা নিয়ে ফের বন্দরবাজার চলে যান। এসময় পুলিশ সদস্যরা তাকে জানান রায়হান কিছুটা অসুস্থ হয়ে যাওয়ার কারনে তাকে সকাল ৭ টায় ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এসময় চাচা হাবিবউল্লাহ উদ্বিন হয়ে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চলে যান। সেখানে গিয়ে জানতে পারেন রায়হানের লাশ মর্গে রাখা তখন তিনি তার মাকে বিষয়টা জানান।

বিষয়টা জানা জানি হলে রায়হানের আত্মীয় স্বজনরা এবং বন্ধু -বান্ধব সহ স্থানীয় লোকজন বিকেল ৪ টার দিকে সিলেট- সুনামগঞ্জ আখালিয়া এলাকায় সড়ক অবরোধ করেন। প্রায় আধাঘন্টা সড়ক অবরোধ করে রাখেন তারা, পরে পুলিশ এসে তাদের শান্ত করে সড়ক থেকে সড়িয়ে দেয়।

কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সৌমেন মৈএ জানান নিহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ করা হয়নি। লিখিত অভিযোগ আসলে তদন্তে করে দেখা হবে। এদিকে সিলেট মহানগর অতিরিক্ত উপ কমিশনার (গণমাধ্যম) জ্যাের্তিময় সরকার’কে জানান রায়হানে মৃত্যু নিয়ে তদন্ত চলছে। তদন্তে পুলিশের কেউ জড়িত থাকার প্রমান পাওয়া গেলে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন