রবিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২১ খ্রীষ্টাব্দ | ৪ মাঘ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

ফেঞ্চুগঞ্জ সেনেরবাজারের নুরজাহান বেগমের জীবন যুদ্ধ…



ফরিদ উদ্দিনঃ সকাল সাতটা থেকে রাত আটটা পর্যন্ত সমান তালে পুরুষের মত কঠিন কাজ করে সংসার চালান ফেঞ্চুগঞ্জ সেনেরবাজার-কোনা পাড়ার নুরজাহান বেগম। বয়স ৩৮ এর কোটায়। আছে অপুষ্টিজনিত সমস্যা। তার পরও দুই ছেলেকে বাঁচাতে সকাল-সন্ধ্যা জ্বালানী কাঠের পরিশ্রমী কাজ করেন ।

নুরজাহান বলেন, ১২ বছর আগে স্বামী পরিত্যাক্ত হয়ে অকুল- সাগরে পড়েন তিনি। তখনও তার দুই ছেলে ছোট। দারিদ্র ছিলো বাবার বাড়িও। নিজের অনিশ্চিত জীবনের সাথে অনিশ্চিত দুই সন্তানের জীবনও। ঘুরেন মানুষের দ্বারে দ্বারে। শুনতে হয় নানা জনের নানা কথা।

এক পর্যায় কঠোর হয়ে নামেন ব্যবসায়। শেষ সম্বল একটি খাসি আর কানের দুল বিক্রি করে সেনেরবাজারে ছোট করে শুরু করেন জ্বালানী কাঠের ব্যবসা। সাথে যোগ দেয় দুই ছেলেও। ব্যবসার কারণে ওরা স্কুলেও যেতে পারেনা।

নুরজাহান বেগম জানান, এ ব্যবসা খুব কঠিন। সিলেট কুলাউড়া শমশেরনগর শ্রীমঙ্গল থেকে পাহাড়ি গাছ এনে নিজে দুই ছেলে নিয়ে সারা দিন কাটেন। জ্বালানী সাইজ করে মন হিসাবে বিক্রি করেন। সেই আয়েই চলে তার সংসার।

সারাদিন কুড়ালে কাজের চাপে রাতে ব্যথায় কাতর হলেও মুখ খুলেন না পাছে ছেলেরা কস্ট পায়!

তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমি বাজারে আসতে চাইনি কিন্তু বাড়ি বাড়ি  কাজ করতে গিয়েও দেখেছি বাড়িওয়ালার অনেক চাহিদা থাকে। তাই বাধ্য হয়ে এখানে আসা। এটাও সহ্য হচ্ছে না সমাজপতিদের। নানা আজেবাজে মন্তব্য  আমি কুড়ালের শব্দে উড়িয়ে দেই। আমি ব্যবসা করে  সংসার চালাই।

আমি যখন দিনের পর দিন উপোষ ছিলাম, চিকিৎসা বিহীন ছিলাম, তখন কোন দরদী পাইনি।

একাজ পরিবর্তনের কথায় তিনি বলেন, এখন উপায় নাই, পুঁজিতে অনেক ঋন আছে, আছে মহাজনের চাপ।  রোগ বালাই নিয়েও কাজ করি।

স্বামী পরিত্যক্ত অহসায় হিসাবে সরকারী সহায়তায় প্রসঙ্গে তিনি বলেন, চেষ্টা করেছি, কিছু পাইনি। আমার জন্য কিছু লাগবে না। যদি পারেন আমার দুইটা ছেলের লেখাপড়ার ব্যবস্থা করে দিন।

এ ব্যাপারে ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা সৌমিত কর্মকার বলেন, ভিজিডি কার্ড প্যাকেজ এ সেশন শেষ।

আর উনিতো বিধবা কৌটায় ও পড়েন না। এ ব্যাপারে উনাকে সমাজসেবা অফিসে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন