শুক্রবার, ২২ জানুয়ারী ২০২১ খ্রীষ্টাব্দ | ৯ মাঘ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

ফেঞ্চুগঞ্জের দারিদ্র শীতার্ত মানুষের দুর্ভোগ



এমরান আহমেদ : জানুয়ারীর প্রথম সপ্তাহে শীত যেন জেকে বসতে শুরু করেছে পাহাড় আর হাওর বেস্টিত ফেঞ্চুগঞ্জে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ইতিমধ্যে ঠান্ডা অনুভুত হলেও ফেঞ্চুগঞ্জে ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে শীত। মধ্য জানুয়ারীতে শীতের তীব্রতা আরো বৃদ্ধি পাবে বলে আবহাওয়াবিদদের ধারণা। হাড় কাঁপানো এই শীতেই ফেঞ্চুগঞ্জের দারিদ্র পল্লীগুলোতে অসহায় শীতার্ত মানুষরা চরম বিপাকে পড়েছে…।

কনকনেরর শীতের তীব্রতা থেকে বাচার জন্য কম্বল, লেপ, সুয়েটার ইত্যাদির জন্য অসহায় মানুষরা ব্যাকুল হয়ে উঠলেও অর্থের যোগান না থাকায় শীতবস্ত্র তাদের নাগালের বাইরেই থেকে যাচ্ছে। সকালের রোদই যেন তাদের এক টুকরো চাদর। চরম দারিদ্র সীমার নিচে বসবাস এই মানুষগুলো এতদিন জীবিকা নির্বাহের অম্বেষায় সকাল থেকে সন্ধা অবধি নানা কাজে নিয়োজিত থাকলেও বর্তমানে শীতের তীব্রতায় ওই কাজও তাদের পক্ষে করা সম্ভব হচ্ছেনা। কেউ কেউ ঠান্ডা উপেক্ষা করে ভোরের ঘনকুয়াশায় বেরিয়ে পড়লেও ঠান্ডাজনিত নানাবিধ অসুখ বিসুখে আক্রান্ত হচ্ছে। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে অসহায় এই জনগোষ্ঠী বির্পস্থ অবস্থায় পতিত হয়েছে।

সোমবার উপজেলার ছত্তিস, পিঠাইটিকর, বাঘমারা, মোমিনছড়া চা বাগান, মনিপুর-মৌরাপুর চা বাগান, ঘিলাছড়ার উত্তর আশিঘর, দক্ষিণ আশিঘর, মধ্য আশিঘর, পুর্ব যুদিষ্টিপুর, কড়িয়াটিল্লা সহ বিভিন্ন এলাকা সরজমিন ঘুরে অসহায় দারিদ্র শীতার্ত মানুষদের দুর্ভোগের বাস্থবচিত্র।

ছোট ছোট ঘর কোনোটাতে টিন থাকলেও বেশীরভাগ ঘর বাড়ি নড়বড়ে, যেগুলোতে হাড়কাপানো বাতাস রাতভর আঘাত হানে। তারা জানায় শীত যত তীব্র হচ্ছে তাদের দুর্ভোগও ততই বৃদ্ধি পাচ্ছে। শীত নিবারণের তেমন কোনো ব্যবস্থা না থাকায় সন্ধার পর থেকে ঘরে আগুন জ্বালিয়ে তারা ঠান্ডা থেকে বাচার চেষ্টা করছেন। চলতি শীত মৌসুমে শিশু ও বয়স্করা পড়েছেন চরম বিপাকে। ছত্তিস গ্রামের ৫ সন্তানের জননী শেফালী বেগম জানান, তার স্বামী একজন মৎস্যজীবি ছেলে মেয়েদের নিয়ে এতদিন কোনোমতে দিন যাপন করলেও বর্তমানে তীব্র শীতে বিপাকে পড়েছেন স্বামী বেচারা আগে ভোরে নদীতে মাছ দরতে যেতে পারলেও এখন ঘন কুয়াশার জন্য সঠিক সময়ে বের হতে পারেন না।

তিনি আরো জানান- বিকেল ৪ টা থেকেই ঘরের দরজা বন্ধ করে দেন কুশিয়ারা নদীর ঠান্ডা বাতাস থেকে রক্ষা পেতে। সন্ধার পর ঘরের কোনে আগুন জ্বেলে রাখেন একটু আরাম পাবার আশায়। গ্রামের সত্তরোর্ধ রেজান আলী জানান, এতদিন তার স্ত্রী হাওয়ারুন নেছা ভিক্ষা করে তার সংসার চালাতেন শীতের কারণে এখন তার পক্ষে নিয়মিত ভিক্ষা করা সম্ভব হয়না। একটি মাত্র কাথা দিয়ে তাদের শীত নিবারণের চেষ্টা করা হয়, কিন্তু রাতভর ঠান্ডায় তারা কাঁপতে থাকেন। সকালের রোদ ওই কম্পনের সমাপ্তি ঘটায়।

ঘিলাছড়ার উত্তর আশিঘর গ্রামের বিজেন্দ্র মালাকার, অরেন্দ্র মালাকার, মিতা রানী, স্বামী হারা ৭ সন্তানের জননী রত্না বেগম, ময়রুন নেছা, মফিক মিয়া, রুকিয়া বেগম সহ অসংখ্য দারিদ্র মানুষ বর্তমান শীতে তাদের দুর্ভোগের কথা জানিয়েছেন। পরোক্ষভাবে ফেঞ্চুগঞ্জের বাঘমারা, পিঠাইটিকর, মনিপুর-মৌরাপুর, মোমিনছড়া চা বাগান ও ঘিলাছড়ায় দেখা গেছে শীতার্ত মানুষের দুর্ভোগ। চা বাগানগুলোতে শীতের মাত্রা একটু বেশি।

সংবাদটি শেয়ার করুন